জাতীয় ফিচার

নির্বাচনে ভয়ের ছায়া দূর করুন; বিএনপি মহাসচিবের কড়া বার্তা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে দেশে ভয়শূন্য পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে গুলি করার ঘটনায় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো একটি বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক সন্ত্রাসের’ উদাহরণ বলে অভিহিত করে তিনি সরকারকে অবিলম্বে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুলের এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এলো যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার নির্বাচনকে স্বচ্ছতার মানদণ্ডে পরিচালিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু বিএনপির মতো বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে, নির্বাচনী পরিবেশ এখনও শান্ত নয়। কেরানীগঞ্জের ঘটনা এমন অভিযোগগুলোকে আরও জোরালো করেছে।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেছেন, “নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা ঘটলে জনগণের মনে ভয়ের সৃষ্টি হয়, যা ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সরকারকে অবশ্যই এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক হামলা এবং গুলির ঘটনা বেড়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। বিএনপি সূত্র জানায়, হাসান মোল্লা দলের স্থানীয় একজন সক্রিয় নেতা, যিনি নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে, যখন অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই ঘটনার পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন গতিপথ দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সাংবিধানিক সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো মনে করে যে, এই সনদ সত্ত্বেও রাজনৈতিক সহিংসতা কমেনি। গত ছয় মাসে দেশে অন্তত ১৫টি রাজনৈতিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে কয়েকটিতে গুলিবর্ষণ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম একটি সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “নির্বাচন অবাধ হবে, এবং কোনো সহিংসতা সহ্য করা হবে না।” বিএনপির দাবি অনুসারে, কেরানীগঞ্জের ঘটনায় পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে, কিন্তু দলটি এটিকে ‘দেখানো’ তদন্ত বলে অভিহিত করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন ঘটনা নির্বাচনের আগে টেনশন বাড়ায় এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ কমাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিগত নির্বাচনগুলোতে সহিংসতার কারণে কয়েকটি এলাকায় ভোটার উপস্থিতি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গিয়েছিল।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র