করের টাকার সঠিক ব্যবহার না হলে নাগরিকরা উৎসাহ হারাবেন: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা
জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে নাগরিকদের তা জানানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রশিদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অনুষ্ঠিত ‘রেভিনিউ মোবিলাইজেশন, ইস্যু অ্যান্ড অপশন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা দেশের বর্তমান রাজস্ব ব্যবস্থার নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “করের টাকা যদি সঠিকভাবে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে ও জনকল্যাণে ব্যয় না হয়, তবে সাধারণ নাগরিকরা কর দিতে তাদের স্বাভাবিক উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন।” করদাতাদের মধ্যে এই আস্থা ফিরিয়ে আনা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন।
রশিদ আল মাহমুদ তিতুমীর তাঁর বক্তব্যে দেশের রাজস্ব নীতি ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর জোর দেন। তবে এই সংস্কার প্রক্রিয়ার রূপরেখা কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন তিনি। বিশ্বায়নের এই যুগে যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি হলেও তা যেন চাপিয়ে দেওয়া কোনো প্রেসক্রিপশন না হয়, সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “সংস্কার আমাদের অবশ্যই করতে হবে; তবে সেটি করতে হবে সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিজস্ব প্রেক্ষাপট এবং দেশের মানুষের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে। ধার করা কোনো মডেলে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
সেমিনারে উপস্থিত অর্থনীতিবিদ ও রাজস্ব খাতের বিশেষজ্ঞরা দেশের কর-জিডিপি অনুপাত (Tax-to-GDP ratio) বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে রাজস্ব আদায়ের হার এখনো বেশ কম। এর পেছনে কর ফাঁকি, করের আওতা সীমিত থাকা এবং কর প্রশাসন ব্যবস্থার জটিলতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, নাগরিকবান্ধব কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে শুধু কর আদায় বাড়ালেই চলবে না, বরং আদায়কৃত অর্থের প্রতিটি পয়সার হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। যখন একজন রিকশাচালক, চাকুরিজীবী বা ব্যবসায়ী দেখতে পাবেন যে তাঁর দেওয়া করের টাকায় দেশের রাস্তাঘাট, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান উন্নয়ন হচ্ছে, তখনই তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাষ্ট্রের কোষাগারে অর্থ জমা দিতে উদ্বুদ্ধ হবেন।





