“এনবিআর অধ্যাদেশ সংশোধনে সুপারিশ করা হবে”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগ গঠনের বিষয়ে আয়কর ও শুল্ক-ভ্যাট কর্মকর্তারা সম্মতি জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তবে এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় অধ্যাদেশের কিছু ত্রুটি সংশোধনের জন্য সুপারিশ করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন।
আজ রোববার সকালে সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, বন্দর ও রাজস্ব আদায় কার্যক্রম গতিশীল করতে গঠিত উপদেষ্টা কমিটির সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফাওজুল কবির। গত ২৯ জুন পাঁচজন উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির প্রধান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
ফাওজুল কবির জানান, নতুন দুটি বিভাগের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হবে। তিনি বলেন, “এনবিআর কর্মকর্তারা চাইছেন শুধু আয়কর ও শুল্ক-ভ্যাট ক্যাডার থেকে নিয়োগ হোক, কিন্তু এটি গ্রহণযোগ্য হবে না। একইভাবে প্রশাসন ক্যাডারের আধিপত্যও বরদাস্ত করা হবে না। নীতিমালার মাধ্যমে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও জানান, কমিটি ইতোমধ্যে আয়কর ও শুল্ক-ভ্যাট কর্মকর্তাদের সংগঠন, এনবিআর, সংস্কার কমিশন এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাঁচটি বৈঠক করেছে। এখন মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পরিদর্শন করা হবে। “আমরা দেখবো, আন্দোলনের আগে ও পরে রাজস্ব সংগ্রহের অবস্থা কেমন ছিল এবং এখন কী পরিমাণ রাজস্ব আদায় হচ্ছে,” বলেন তিনি।
ফাওজুল কবির উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীরা কমিটিকে জানিয়েছেন যে এনবিআরের আন্দোলনের কারণে তারা ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। চট্টগ্রাম বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটেছে এবং রাজস্ব সংগ্রহ ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা এখনও শুল্ক-ভ্যাট কর্মকর্তাদের দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তবে তারা সরকারের সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন।”
এনবিআরের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কমিটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্দোলনের মূলে ছিল প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে অন্য ক্যাডারের দ্বন্দ্ব। পরে এটি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সরকারবিরোধী অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগ থেকে তদন্তের সুপারিশ করা হবে।”
অধ্যাদেশের ত্রুটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অধ্যাদেশে সচিব নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি’ বলা হয়েছে, কিন্তু রাজস্ব অভিজ্ঞতার ধরন স্পষ্ট করা হয়নি। এই অস্পষ্টতা দূর করার জন্য আমরা সুপারিশ করব।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এনবিআর নামটি থাকবে না। এই নাম শুনলেই মানুষ হাসে। নতুন বিভাগগুলোর মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা হবে।”
এনবিআর কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে ফাওজুল কবির বলেন, “তারা সরকারের আস্থা হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে তারা অর্থনীতির ক্ষতি করেছেন। এখন তাদের রাজস্ব সংগ্রহ বাড়িয়ে এবং কনটেইনার জট কমিয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের জন্য অভয় বার্তা নেই, কারণ তারা শিশু নন।”





