জাতীয় দেশ সংযোগ ফিচার রাজনীতি

‘উত্তরবঙ্গ হবে কৃষিশিল্পের রাজধানী, আপনাদের ঘর থেকেই আসবে আগামীর প্রধানমন্ত্রী’

‘উত্তরবঙ্গ হবে কৃষিশিল্পের রাজধানী, আপনাদের ঘর থেকেই আসবে আগামীর প্রধানমন্ত্রী’

কুড়িগ্রামের দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ আর ধরলা-ব্রহ্মপুত্রের পলিমাটি সাক্ষী থাকল এক নতুন রাজনৈতিক অঙ্গীকারের। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে অবহেলিত উত্তরবঙ্গকে ‘কৃষিশিল্পের রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে তিনি এই অঞ্চলের তরুণদের উজ্জীবিত করে বলেন, “আপনাদের এই অবহেলিত জনপদ আর পিছিয়ে থাকবে না; ইনশাআল্লাহ আপনাদের ঘর থেকেই বেরিয়ে আসবে আগামীর প্রধানমন্ত্রী।”

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ১১-দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মঙ্গার ইতিহাস মুছে নতুন অর্থনীতির ডাক

জনসভাটি কেবল একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং উত্তরবঙ্গের মানুষের বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাসের এক জবাব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন প্রতি বছর বন্যাকবলিত হয়ে এই অঞ্চলের মানুষকে সর্বস্বান্ত হতে হবে? কেন কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে পর্যাপ্ত হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থাকবে না?”

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে উত্তরবঙ্গের বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করা হবে। এছাড়া এখানে বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) স্থাপন করে স্থানীয় কৃষিপণ্যকে সরাসরি বিশ্ববাজারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তার মতে, কুড়িগ্রাম-রংপুর অঞ্চল হবে দেশের ‘খাদ্যভাণ্ডারের’ পাশাপাশি ‘শিল্পের প্রাণকেন্দ্র’।

নেতৃত্বের বিকেন্দ্রীকরণ ও তারুণ্যের জয়গান

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান উত্তরবঙ্গের মেধাবী সন্তানদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে আবেগঘন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এতদিন রাজধানী-কেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে প্রান্তিক মানুষ নেতৃত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কিন্তু আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে যোগ্যতা থাকলে একজন চাষির সন্তানও দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হতে পারবে। আগামীর প্রধানমন্ত্রী আপনাদের এই কুড়িগ্রাম বা উত্তরবঙ্গ থেকেই উঠে আসবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পরীক্ষা। এই নির্বাচনে ভোট দিয়ে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শনের জন্য তিনি উপস্থিত জনতাকে আহ্বান জানান।

কুড়িগ্রামের এই জনসভায় কেবল জামায়াতের নেতা-কর্মীরাই নয়, ১১-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। এনসিপি, খেলাফত মজলিস ও ছাত্র প্রতিনিধি হাসনাত আবদুল্লাহসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একসুরে বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ আর ‘সৎ মা’ সুলভ আচরণ বরদাশত করবে না।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র