ইসির আশ্বাসে ছাত্রদলের ঘেরাও স্থগিত: দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতিতে অবস্থান প্রত্যাহার
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আশ্বাস পেয়ে ঘেরাও কর্মসূচি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (ছাত্রদল)। পোস্টাল ব্যালটে কারচুপি, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পক্ষপাতের অভিযোগে দুই দিন ধরে নির্বাচন ভবন ঘেরাও করে রেখেছিল তারা। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ইসির অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এরপর নেতাকর্মীরা নির্বাচন ভবন এলাকা ছেড়ে যান এবং স্থান পরিষ্কার করে দেন।
এই ঘটনা দেশের চলমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে নতুন মোড় এনেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (১২ ফেব্রুয়ারি) আগে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। ছাত্রদলের অভিযোগ ছিল, পোস্টাল ব্যালটের নকশা ও ব্যবস্থাপনায় পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তুলেছিল তারা। রোববার (১৮ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচি দ্বিতীয় দিনেও চলছিল, যাতে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
সোমবার সকাল থেকে আবার কর্মসূচি শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও দুপুরের দিকে ইসির সঙ্গে বৈঠক হয়। ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়াসহ অন্যরা। বৈঠকে ইসি কর্তৃপক্ষ দাবিগুলো যৌক্তিক বলে মেনে নেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। সভাপতি রাকিব বলেন, “ইসির আশ্বাস পেয়ে আমরা আস্থা রাখছি। দাবি পূরণ না হলে আবার কর্মসূচিতে যাব।”
এই স্থগিতাদেশের পর নির্বাচন ভবনের সামনে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা, যা পরিবেশবান্ধব একটি অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ছাত্রদলের দায়িত্বশীলতার পরিচয়। তবে অনেকে মনে করেন, এই আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা সময়ই বলবে। বিএনপির অঙ্গসংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের এই আন্দোলন নির্বাচনী মাঠে বিরোধীদের কণ্ঠস্বরকে আরও জোরালো করেছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চলছে এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। তবে ইসির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।





