ইরানের পারমাণবিক সমঝোতা না হলে ‘আরও ভয়াবহ’ হামলা: ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে আলোচনায় না বসলে দেশটির ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হবে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক বক্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি বলেন, তেহরান যদি ‘ন্যায্য ও নিরপেক্ষ’ চুক্তিতে না আসে, তাহলে পরবর্তী হামলা গত জুনের চেয়ে ‘অনেক বেশি ভয়াবহ’ হবে। এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ পোস্টে এসেছে। তিনি লিখেছেন, “ইরান দ্রুত আলোচনায় বসুক এবং পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন একটি ন্যায্য চুক্তি করুক। সময় ফুরিয়ে আসছে।” তিনি উল্লেখ করেন, গতবারের সতর্কতা উপেক্ষা করায় ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ চালানো হয়েছিল, যাতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হয়। এবারের হামলা তার চেয়েও কঠোর হবে বলে হুমকি দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর—ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন নেতৃত্বাধীন অ্যারমাডা—পারস্য উপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা ‘দ্রুত ও হিংসাত্মক’ পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত।
এই হুমকির পটভূমিতে রয়েছে গত বছরের ঘটনাপ্রবাহ। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর ইরানের প্রতিক্রিয়ায় কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ হয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫-এর জেসিপিওএ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বেড়েছে। ট্রাম্প এখন ‘জিরো এনরিচমেন্ট’ নীতি চাপিয়ে দিতে চান, যাতে ইরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে এবং স্টকপাইল হস্তান্তর করে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান অর্থনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের চাপে রয়েছে। গত মাসগুলোতে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে, যা সরকার কঠোরভাবে দমন করেছে। ট্রাম্প প্রথমে প্রতিবাদ দমনের জন্য হুমকি দিলেও এখন ফোকাস পারমাণবিক ইস্যুতে সরিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হুমকি ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করার কৌশল। তবে তেহরান থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। মার্কিন নৌবহরের অগ্রগতি, ইরানের সামরিক মহড়া এবং হরমুজ প্রণালীতে দুই পক্ষের সতর্ক অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সতর্ক করে দিয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলো যদি মার্কিন হামলায় সহায়তা করে, তাদের শত্রু মনে করা হবে।





