ইরানের নতুন নেতা নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ‘অনুমোদন ছাড়া বেশি দিন টিকবে না’
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের আগমুহূর্তে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের সমর্থন ছাড়া ইরানের নেতৃত্বে যাঁকেই বসানো হোক না কেন, তিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। রোববার এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প, ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই তেহরানে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সর্বোচ্চ নেতা পদটি। এই পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি দেশের সামরিক বাহিনী, বিচারব্যবস্থা এবং কৌশলগত নীতিনির্ধারণে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রাখেন। তাই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে তেহরানে নিহত হন ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করে। একই সঙ্গে তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রেও তৈরি হয় শূন্যতা, যা দ্রুত পূরণ করার চেষ্টা করে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব।
এই প্রেক্ষাপটে রোববার বৈঠকে বসে ইরানের বিশেষ পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’। সংবিধান অনুযায়ী, এই পরিষদের সদস্যরাই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন বা অপসারণের ক্ষমতা রাখেন। দীর্ঘ আলোচনার পর তারা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন।
তবে নির্বাচনের কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প এক বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন, ইরানের নেতৃত্বের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব উপেক্ষা করা সহজ হবে না। তিনি বলেন, “যে নেতাই নির্বাচিত হোক না কেন, যদি তিনি আন্তর্জাতিক বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁর ক্ষমতায় থাকা কঠিন হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসলে তেহরানের প্রতি রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বহুবার তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে সেই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ তিনি ইরানের রক্ষণশীল ধর্মীয় ও সামরিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে পরিচিত। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, তাঁর নেতৃত্বে তেহরান পশ্চিমা চাপের কাছে নতি স্বীকার করার বদলে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।





