অভ্যুত্থানের পরের মামলা পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নিরীহ মানুষকে ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর এটাই ছিল সালাহউদ্দিন আহমদের প্রথম সমন্বয় বৈঠক। বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে আড়াইটা পর্যন্ত চলে দীর্ঘ আলোচনা। বৈঠকে অংশ নেন বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রধান, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে সচিবালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী একে একে সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গত ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্থানে একাধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু মামলা ‘সুবিধাবাদী মহল’ দায়ের করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, এমনকি অরাজনৈতিক পেশাজীবীদের নামও অনেক মামলায় যুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রকৃত অপরাধী শনাক্তের বদলে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা সুযোগসন্ধানী উদ্দেশ্য কাজ করেছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হবে।
মন্ত্রী বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে আইনের অপব্যবহারও বন্ধ করতে হবে। কোনো নিরীহ মানুষ যেন শুধু পরিস্থিতির শিকার হয়ে হয়রানির মধ্যে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” এ জন্য সব জেলা পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের মামলাগুলো পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা সাধারণত বেড়ে যায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে বা প্রতিশোধ নিতে মামলা ব্যবহারের নজির রয়েছে। ফলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলা দায়ের করা নাগরিক অধিকার হলেও তার ভিত্তি হতে হবে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও যুক্তিসঙ্গত অভিযোগের ওপর। অন্যথায় বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ে এবং প্রকৃত অপরাধ তদন্ত ব্যাহত হয়। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সরকার একটি বার্তা দিতে চায়—আইন হবে নিরপেক্ষ, প্রতিহিংসার হাতিয়ার নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে, সে জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে মামলা রেকর্ড, যাচাই ও তদন্তের মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে।





