অপরাধ ফিচার রাজনীতি শীর্ষ তিন

গাজী নজরুলের পর আমির হামজার ঘটনায় জামায়াত ‘গুম’ হয়ে গেছে: রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বক্তব্য দিচ্ছেন এবং জামায়াতের তীব্র সমালোচনা করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, গাজী নজরুলের পর এবার আমির হামজার ঘটনার পর দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল জামায়াত মাঠের রাজনীতি থেকে পুরোপুরি ‘গুম’ হয়ে গেছে। তাঁর মতে, একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হলেও দলটির পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান বা জোরালো প্রতিক্রিয়া না আসা তাদের চরম কৌশলগত ব্যর্থতা এবং ভীরুতারই বহিঃপ্রকাশ। আজ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের সমসাময়িক আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকালে তিনি জামায়াতের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হাজির করেন।
এক নজরে মূল তথ্যসমূহ:
    • প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন জামায়াতের বর্তমান নিষ্ক্রিয় অবস্থানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
    • গাজী নজরুলের ঘটনার ধারাবাহিকতায় আমির হামজা ইস্যুতেও জামায়াতের নীরবতাকে ‘রাজনৈতিক অন্তর্ধাম’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
    • সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে দলটি এখন পুরোপুরি দিশেহারা।
    • তৃণমূলের কর্মীদের মাঝে এই দীর্ঘমেয়াদি নীরবতার কারণে বড় ধরনের হতাশা তৈরি হওয়ার আভাস।

আমির হামজা কাণ্ড ও জামায়াতের পিছুটান
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শ যতই ভিন্ন হোক না কেন, তাদের নিজস্ব নেতাকর্মী বা সমমনাদের সংকটে রাজপথে থাকাটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু গাজী নজরুলের ঘটনার পর যখন আমির হামজার বিষয়টি সামনে এলো, তখন জামায়াত যেন একবারে খোলসের ভেতর ঢুকে গেছে। রাজপথে তো দূর, তারা এখন গণমাধ্যমেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে ভয় পাচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের ছদ্মবেশী এবং কাপুরুষোচিত রাজনীতি কখনো একটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে পারে না। কর্মীরা যখন দেখে তাদের শীর্ষস্থানীয় বা আলোচিত চরিত্রগুলোর বিপদে কেন্দ্র কোনো শক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তখন সেই দলের সাংগঠনিক ভিত্তি নড়বড়ে হতে বাধ্য। আমির হামজার ঘটনাটি দলটির ভেতরের এই ফাঁপা সাংগঠনিক শক্তিকে জনগণের সামনে পুরোপুরি উন্মোচিত করে দিয়েছে।
অদৃশ্য সুতোর টান নাকি রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ?
রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, জামায়াত কি আসলেই কোনো বড় ধরনের রণকৌশলের অংশ হিসেবে এই নীরবতা পালন করছে, নাকি তারা সরকারের কঠোর আইনি পদক্ষেপের ভয়ে পুরোপুরি কোণঠাসা? রাশেদ খাঁন তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দলটির এই পিছুটান আসলে তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়। কোনো অদৃশ্য শক্তির দয়ায় রাজনীতি করার দিন যে শেষ হয়ে গেছে, সেই সত্যটি জামায়াত নেতৃত্ব এখনো অনুধাবন করতে পারছে না।
অতীতের ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির অহংকার ভেঙে দলটি এখন এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, প্রতিটি বড় সংকটে তারা কেবল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার নাম করে সময় পার করছে। গাজী নজরুলের সময়ও তারা একই আচরণ করেছিল, আর এখন আমির হামজার বেলায় এসে তারা যেন রাজনীতি থেকেই নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। এই আত্মসমর্পণ তাদের ভবিষ্যৎ অস্তিত্বকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।
রাজপথের রাজনীতি বনাম পর্দার আড়ালের সমঝোতা
সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই কর্মকর্তার মতে, জামায়াত এখন দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচিতে যাওয়ার সাহস হারিয়ে ফেলেছে। তারা এখন পর্দার আড়ালে বিভিন্ন মহলের সাথে লিয়াজোঁ বা সমঝোতা করার চেষ্টা করছে যাতে করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায়। তবে দেশের সাধারণ মানুষ এখন অনেক সচেতন এবং তারা এই ধরনের দ্বিমুখী নীতি কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।
একটি দল যখন তাদের নিজেদের এজেন্ডা ও নেতাকর্মীদের অধিকার আদায়ে ব্যর্থ হয়, তখন তারা জনগণের আস্থা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলে। গাজী নজরুল এবং আমির হামজার ঘটনাগুলো দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জামায়াতের জন্য একটি বড় পরাজয়ের স্মারক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। রাজপথের হুঙ্কার ছেড়ে তারা এখন স্রেফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিবৃতির রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ভবিষ্যৎ গতিপথ ও তৃণমূলের ক্ষোভ
বক্তব্যের শেষ দিকে সরকারের এই নীতিনির্ধারক হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো অপশক্তি যদি দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করে তবে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। জামায়াত রাজনৈতিকভাবে ‘গুম’ হয়ে থাকুক বা ছদ্মবেশ ধারণ করুক না কেন, তাদের প্রতিটি গতিবিধির ওপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনি শাসন বজায় রাখতে সরকার কোনো আপস করবে না।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর এই বক্তব্য জামায়াতের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে। তৃণমূলের কর্মীরা অলরেডি কেন্দ্রের এই নিষ্ক্রিয়তায় চরম ক্ষুব্ধ। আমির হামজা ইস্যুকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তা যদি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত প্রশমিত করতে না পারে, তবে দলটি বড় ধরনের ভাঙন বা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

মাসুম

About Author

I am a sarvent of Allah. I follow mohammad (sm) only. "La ilaha Illallahu Muhammadur rasulullah"

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার