জাতীয় জীবনযাপন ফিচার শীর্ষ তিন

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মুখে হাসি: প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি করার বড় ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় এক বড় ধরণের বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের পিছিয়ে পড়া এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারপ্রধান স্পষ্ট করে বলেছেন, সমাজে অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীকে মূল ধারার অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত না করতে পারলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। সম্প্রতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এই কল্যাণমুখী বার্তার কথা প্রকাশ্যে আনেন, যা দেশের লাখ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের মনে এক নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
এক নজরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঘোষণাসমূহ:
    • ভাতা সংস্কার: চলমান বাজেট পর্যালোচনার মাধ্যমে আগামী অর্থবছর থেকেই এই বর্ধিত সামাজিক ভাতা কার্যকর হবে।
    • আওতা সম্প্রসারণ: দেশের শতভাগ নিবন্ধিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে এই সরকারি ভাতার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
    • স্মার্ট পেমেন্ট: মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই টাকা পৌঁছে যাবে।
    • কর্মসংস্থানের সুযোগ: সরকারি ও বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ কোটা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।


সামাজিক সুরক্ষায় প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি ও সরকারি অঙ্গীকার
বাংলাদেশের সংবিধানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক সুরক্ষার কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলা রয়েছে। এই আইনি বাধ্যবাধকতা এবং মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বাজেট বাড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তাতে বিদ্যমান ভাতার পরিমাণ অত্যন্ত অপ্রতুল। এ কারণেই দেশের প্রান্তিক স্তরে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়াতে মূলত প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি করার এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
সরকারপ্রধান তার বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আমাদের সমাজের কোনো বোঝা নয়, বরং তাদের সঠিক সুযোগ ও পরিবেশ দিলে তারাও দেশের বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে। এ লক্ষ্যে তাদের জন্য বিনামূল্যে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা এবং সহায়ক উপকরণ যেমন—হুইলচেয়ার ও শ্রবণযন্ত্র বিতরণের কর্মসূচি দেশজুড়ে আরও জোরদার করা হবে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের তাগিদ
ভাতা বিতরণের ক্ষেত্রে অতীতে নানাবিধ অনিয়ম ও প্রকৃত সুবিধাভোগী বাদ পড়ার ভুরিভুরি অভিযোগ সামনে এসেছে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা ‘স্মার্ট’ উপায়ে ভাতা বিতরণের ওপর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এখন থেকে প্রতিটি ভাতার টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীর নিজস্ব বিকাশ, রকেট বা শিউরক্যাশ অ্যাকাউন্টে ‘জিটুপি’ (গভর্নমেন্ট টু পারসন) পদ্ধতিতে চলে যাবে।
এই আধুনিক ডাটাবেজ তৈরির ফলে কোনো ভুয়া বা জাল পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার সুযোগ থাকবে না। সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর ইতিমধ্যেই দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারগুলোর মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা সুবর্ণ কার্ড দেওয়ার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিশেষ অগ্রাধিকারের রূপরেখা
শুধুমাত্র মাসিক ভাতার ওপর নির্ভরশীল না রেখে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করার জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে তাদের জন্য কম্পিউটার টাইপিং, হস্তশিল্প ও গ্রাফিক্স ডিজাইনের মতো যুগোপযোগী কোর্সের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যেসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানায় প্রতিবন্ধী কর্মীদের নিয়োগ দেবে, সরকার তাদের বিশেষ কর ছাড়ের (Tax Rebate) সুবিধা প্রদান করবে। এই নীতিমালার ফলে করপোরেট সেক্টরেও এই বিশেষ নাগরিকদের কাজের সুযোগ বহুগুণ বেড়ে যাবে।
বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে সর্বজনীন উদ্যোগ জরুরি
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিত্তবান শ্রেণী এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র তখনই উন্নত হতে পারে যখন তার কোনো নাগরিক অবহেলিত থাকে না। মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে আমাদের এই বিশেষ ভাই-বোনদের সম্মান দিতে হবে।
সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের লাখ লাখ পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজের গতি বাড়ানোই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

মাসুম

About Author

I am a sarvent of Allah. I follow mohammad (sm) only. "La ilaha Illallahu Muhammadur rasulullah"

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র