বড় ধরনের সাইবার হামলার শঙ্কা: বন্ধ রাখা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, সর্বোচ্চ সতর্কতা
গ্রাহকদের তথ্য ও দেশের আর্থিক খাতের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকস্মিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ডাউন বা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বড় ধরনের একটি আন্তর্জাতিক সাইবার হামলার আশঙ্কায় এই প্রতিরোধমূলক জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হঠাৎ করে এই অফিশিয়াল পোর্টালটি নিষ্ক্রিয় করার কারণে সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকিং খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও এক ধরনের অঘোষিত উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিস্থিতি একনজরে:
• সম্ভাব্য সাইবার হামলা ও হ্যাকিংয়ের আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট।
• কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইটি বিশেষজ্ঞরা ২৪ ঘণ্টা পুরো নেটওয়ার্কের ওপর কড়া নজরদারি ও ম্যালওয়্যার স্ক্রিনিং চালাচ্ছেন।
• মূল ফায়ারওয়াল আপডেট এবং ডেটা সার্ভার সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে এই শাটডাউন কার্যকর করা হয়।
• সাধারণ ব্যাংকিং লেনদেন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ আরটিজিএস (RTGS) সেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
সার্ভার সুরক্ষায় বিশেষ ড্রিল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট শাটডাউন
বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি ও সাইবার সিকিউরিটি উইংয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে বৈশ্বিক কিছু হ্যাকার গ্রুপের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রেনসমওয়্যার কিংবা ডিডোস (DDoS) আক্রমণের স্পষ্ট হুমকি পাওয়া গেছে। এই গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল ফায়ারওয়ালকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফায়ারওয়াল ও নিরাপত্তা প্রোটোকল আপগ্রেড করার সময় হ্যাকাররা যাতে কোনো ধরনের ব্যাকডোর তৈরি করতে না পারে, সেজন্যই সাময়িকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাধারণ জনগণের ব্যবহারের জন্য ব্লক বা নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে।
এর ফলে ব্যবহারকারীরা সাইটটিতে প্রবেশ করতে গেলে ‘সার্ভার নট ফাউন্ড’ কিংবা ‘সাইট ক্যাননট বি রিচড’ এর মতো ত্রুটিপূর্ণ মেসেজ দেখতে পাচ্ছেন। তবে এই সাময়িক ডাউনটাইম মূল ব্যাংকিং ডেটাবেস কিংবা মূল সার্ভারের কোনো ক্ষতি করেনি বলে পরিষ্কার জানিয়েছে আইটি বিভাগ। কর্মকর্তারা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, এটি একটি নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়া বা সুরক্ষামূলক ড্রিল মাত্র।
মূল আর্থিক লেনদেন কি ঝুঁকিতে? প্রশাসনের জরুরি ব্যাখ্যা
ওয়েবসাইট বন্ধ হওয়ার খবর চাউর হতেই দেশের সাধারণ মানুষের মনে ২০১৬ সালের সেই চাঞ্চল্যকর রিজার্ভ চুরির ঘটনার স্মৃতি নতুন করে হানা দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, ওয়েবসাইটের সাথে মূল ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক কিংবা রিজার্ভের মূল অ্যাকাউন্টের সরাসরি কোনো সংযোগ বা ইন্টারফেস থাকে না।
সব ধরনের ইন্টার-ব্যাংক লেনদেন, ক্লিয়ারিং হাউস এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম সম্পূর্ণ আলাদা ও অত্যন্ত সুরক্ষিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের ব্যাংকে গচ্ছিত আমানত কিংবা রেমিট্যান্সের টাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। তবুও কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিতে সরকারের সাইবার নিরাপত্তা টিম বা ‘বিডি সার্ট’ (BDGD e-GOV CIRT) এর সাথে যৌথভাবে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দেশের ব্যাংকিং খাতে সর্বাত্মক রেড অ্যালার্ট জারি
কেবল কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নয়, এই সম্ভাব্য সাইবার হামলার আশঙ্কায় দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সমস্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অবিলম্বে বিশেষ নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথ, অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাপ এবং কাস্টমার কেয়ার ডেটাবেস সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ডিজিটাল লেনদেনের এই দ্রুত প্রসারের যুগে ব্যাংকিং খাতকে প্রতিনিয়ত হ্যাকারদের নজরদারিতে থাকতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই আগাম ও প্রো-অ্যাক্টিভ সিদ্ধান্ত হ্যাকারদের যেকোনো পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে বড় ভূমিকা রাখবে। আইটি দলের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া মাত্রই খুব দ্রুত এই অফিশিয়াল সাইটটি আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।





