“দেশে ২৮.৫৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আছে”
দেশে উত্তোলনযোগ্য প্রমাণিত ও সম্ভাব্য গ্যাস মজুতের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৫৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। গ্যাসক্ষেত্র থেকে বর্তমানে দৈনিক গড়ে ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের বিবেচনায় অবশিষ্ট গ্যাসে ১০ দশমিক ৮ বছর ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, শুরু থেকে ৩০ জুন ২০২২ পর্যন্ত দেশে ক্রমপুঞ্জিত গ্যাসের পরিমাণ ১৯ দশমিক ৫৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য অবশিষ্ট মজুত ৯ দশমিক শূন্য ছয় ট্রিলিয়ন ঘনফুট। দেশের বেসরকারি এলপিজি আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম না কমলে সরকারের ভর্তুকি ছাড়া দেশের বাজারে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সাশ্রয়ী করার সুযোগ নেই।
এসময় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, গ্যাসের অপচয় রোধে আবাসিক পর্যায়ে ৪০ লাখ ৬২ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। বাকি আবাসিকে পর্যায়ক্রমে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হবে।
কাজী নাজিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে আটটি গ্রাহক শ্রেণিতে সংযোগকৃত অনুমোদিত গ্যাস লোড অনুযায়ী চাহিদা দৈনিক গড়ে ৩৭০০ ঘনফুট। এর বিপরীতে দৈনিক উৎপাদন গড়ে ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অবকাঠামোগত সক্ষমতা থাকলেও বৈশ্বিক সংকটে দৈনিক কমবেশি ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট সমপরিমাণ এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্রাহকদের চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সংকটের পরিমাণ দৈনিক গড়ে প্রায় ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আ ক ম সরওয়ার জাহানের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দেশে বর্তমানে বছরে এলপিজি’র চাহিদা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। দেশে সরকারি পর্যায়ে উৎপাদন মাত্র ২ শতাংশ। বাকি চাহিদা বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি’র মূল্য, মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের হ্রাস/বৃদ্ধি এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সমন্বয় করে দেশে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় করা হয় বলে জানান তিনি।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, ডিজেল বিক্রয়ে বিপিসি লিটারপ্রতি ২১ টাকা লোকসান দিচ্ছে। ভবিষ্যতে যখনই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমবে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান, বর্তমান সরকারের তিন মেয়াদে বিদ্যুৎ খাতে ২৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ২৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৯ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের কাছে বিদ্যুৎ বিভাগের পাওনা ১ হাজার ৮৯৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে পাওনা ৯০৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩৯৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
নসরুল হামিদ বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি বিভিন্ন দফতর/সংস্থাসমূহ নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আছে। তবে তদারকি জোরদার করে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করায় বিগত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ বিলের বকেয়ার পরিমাণ কমানো সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দুর্ভিক্ষ থেকে দেশকে বাঁচাতে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান





