মাইরা ফেলার মতো কাজ তো করি নাই’: মগবাজারে আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলির ঘটনায় তোলপাড়
• আসন বরাবর গুলি করে পালায়।
• ঘটনার সময় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর বা তাঁর পরিবারের কেউ গাড়ির ভেতরে ছিলেন না।
• ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীকে শনাক্তের জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে।
যেভাবে ঘটল সেই লোমহর্ষক ঘটনা ও আসিফ আকবরের প্রতিক্রিয়া
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে বিশাল সেন্টারের সামনে দাঁড়ায় এবং সেখান থেকে নেমে এক ব্যক্তি দ্রুত আগ্নেয়াস্ত্র বের করে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে সঙ্গে সঙ্গে স্থান ত্যাগ করে। গুলির শব্দ পেয়ে আশপাশের মানুষ ছুটে আসার আগেই অটোরিকশাটি মগবাজার মোড়ের দিকে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সংগীতাঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। আসিফ আকবর মনে করছেন, এটি কোনো সাধারণ বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যারা এই কায়দায় হামলা করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে এবং তাঁর গতিবিধি গভীরভাবে অনুসরণ করছিল। নিখুঁত পরিকল্পনা মেনেই এই কাজ করা হয়েছে। অথচ তিনি এমন কোনো চরম শত্রুতার পরিবেশ তৈরি করেননি যা কাউকে হত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করতে পারে।
স্ত্রীর চোখে ভোরের সেই আতঙ্কের বর্ণনা
এদিকে স্বামীর ব্যক্তিগত আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি করার এই ঘটনায় গভীর বিস্ময় ও তীব্র উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন তাঁর স্ত্রী সালমা আসিফ মিতু। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সময় তারা বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ ভোরবেলা আসিফ তাঁকে এসে জানান যে তাঁর গাড়িতে গুলি করা হয়েছে এবং গাড়ির কাঁচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মিতু আরও বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটরে তারা হামলার পরের কিছু আবছা চিত্র দেখতে পান এবং বিকট গুলির আওয়াজও পান। তাঁদের পুরো পরিবার এই মুহূর্তে এক ধরনের মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কারণ কাউকে সন্দেহ করার মতো কোনো জোরালো সূত্র বা বৈরিতা তাঁদের পারিবারিক কিংবা ব্যবসায়িক জীবনে নেই।
তদন্তে নেমেছে police, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পরই ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান দুপুরের দিকে সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারীকে ধরতে পুলিশের একাধিক ক্রাইম টিম মাঠে নেমেছে।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে কুয়াশা এবং ভোরবেলার আবছা আলোর কারণে ফুটেজে হামলাকারীর পুরো অবয়ব পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না, কেবল তার পা দেখা গেছে। পুলিশ আশপাশের অন্যান্য ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডও সংগ্রহ করছে যাতে অটোরিকশাটির নম্বর প্লেট এবং হামলাকারীর রুট ট্র্যাক করা সম্ভব হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আবুল বাশার তালুকদার আশ্বস্ত করেছেন যে, অপরাধী যেই হোক না কেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।





