ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন শূন্য ঘোষণা
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে এক জরুরি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। স্পিকারের কার্যালয়ে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে তিনি এই পদত্যাগপত্র দাখিল করার পরপরই সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী এই বিধিবদ্ধ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
জাতীয় সংসদ ভবন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সংসদ সচিবালয়ের সম্মানিত সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে আসনটি শূন্য হওয়ার সার্বিক বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক ময়দানে এবং সংসদীয় ইতিহাসে সংরক্ষিত আসনে জনপ্রতিনিধিদের এমন তাৎক্ষণিক পদত্যাগের ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ (২) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বিধান দেওয়া আছে যে, কোনো সংসদ সদস্য যদি স্পিকারের হাতে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দেন, তবে স্পিকারের কাছে তা পৌঁছানোর মুহূর্ত থেকেই আসনটি কার্যকরভাবে খালি বলে গণ্য হবে। এই নির্দিষ্ট আইনের ভিত্তিতেই সংসদ সচিবালয় তাদের দাপ্তরিক গেজেট জারি করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে।
রাজধানীর রাজনীতি ও সংসদীয় মহল ঘুরে জানা গেছে, পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ গৃহীত হলেও এতে আইনি বা সাংবিধানিক কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশের সামঞ্জস্য রক্ষায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে সংসদ ভবন সূত্রে গুঞ্জন রয়েছে।
সংসদের কোনো আসন শূন্য হলে পরবর্তী নির্ধারিত মেয়াদ বা বিধিসম্মত সময়ের মধ্যে পুনরায় তা পূরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংসদ সচিবালয় থেকে আসন শূন্য সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও গেজেট কপি দ্রুতই নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এরপর সাংবিধানিক নিয়ম অনুসরন করে আসনটিতে উপ-নির্বাচন কিংবা নতুন প্রতিনিধি মনোনীত করার আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন।



