Tathya Sangjog is an e-learning platform where one can share news from numerous categories, like administration, art, movies, music, market trends, technology, etc.
এডিস মশার ভয়াল থাবা: দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু আরও ৬ জনের, আক্রান্তের শীর্ষে ঢাকা বিভাগ
BY মাসুম
September 29, 2026
0
Comments
44 Views
দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে অবনতি; আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারের দিক থেকে শীর্ষে ঢাকা বিভাগ (ছবি: তথ্য সংযোগ)।
বর্ষা মৌসুমের বিদায়লগ্নে এসেও রাজধানীসহ সারা দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ যেন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে আরও ৬ জনের, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে [১.২.৭]। চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং মশক নিধন কার্যক্রমের স্থবিরতাকেই বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, নতুন করে আক্রান্ত হওয়া বিপুল সংখ্যক রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ অংশই ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মূল হাইলাইটস
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জন রোগীর করুণ মৃত্যু [১.২.৭]।
নতুন করে রেকর্ড সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন।
ভৌগোলিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারের দিক থেকে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ।
হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও ফ্লুইড (স্যালাইন) সংকটের আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন চিকিৎসকেরা।
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার ও হাসপাতালের চিত্র
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব পূর্ববর্তী সব মাসের রেকর্ড ভেঙে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টিপাত এডিস মশার লার্ভা জমার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করছে। এর ফলে পাড়া-মহল্লায় জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঢাকার প্রধান প্রধান বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর ডেঙ্গু ওয়ার্ডে এখন নতুন রোগী ধারণের জায়গা পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভয়াবহ এই স্বাস্থ্য সংকটের মাঝেও স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোর মশক নিধন কার্যক্রমে এক ধরনের চরম ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ, ফগিং বা লার্ভিসাইড ছিটানোর নিয়মিত কোনো সুনির্দিষ্ট তদারকি নেই। অনেক এলাকায় ড্রেন ও দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় মশার প্রধান প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে চারপাশ। এই চরম অবহেলা ও জনসচেতনতার অভাবই মূলত দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিলকে দিন দিন আরও দীর্ঘায়িত করছে।
ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ আক্রান্তের নেপথ্য কারণ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজিক্যাল রিপোর্টে স্পষ্ট দেখা গেছে যে, মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি রোগী কেবল ঢাকা বিভাগের। ঘনবসতিপূর্ণ এই মেগাসিটিতে বহুতল ভবনের বেজমেন্ট, নির্মাণাধীন ভবন এবং ছাদবাগানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করছে। ঢাকার বাইরে থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় গুরুতর অবস্থায় রোগীরা রাজধানীতে আসার কারণেও এখানকার হাসপাতালগুলোতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ডেঙ্গুর বর্তমান সেরোটাইপ বা ভ্যারিয়েন্টটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিরা খুব দ্রুত শক সিন্ড্রোমে চলে যাচ্ছেন।
বিশেষ করে শিশুরা এবং আগে যারা একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তারা এবার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়ার পাশাপাশি লিভার ও কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বে ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে চিরুনি অভিযান চালিয়ে মশার লার্ভা ধ্বংস না করলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। একই সাথে ঢাকার বাইরের জেলা হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসার পর্যাপ্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে রোগীদের মুমূর্ষু অবস্থায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় আসতে না হয়।
জনসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক জরুরি পদক্ষেপ
ডেঙ্গুর এই ভয়াবহ থাবা থেকে বাঁচতে হলে কেবল সরকারি উদ্যোগের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। টব, টায়ার বা ডাবের খোসায় যেন কোনোভাবেই তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। রাতে বা দিনে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং শরীরে জ্বর বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত শয্যা ও স্যালাইনের মজুত বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। তবে আক্রান্তের গতি যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে যেকোনো সময় জরুরি ওষুধের কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের সাধারণ মানুষ আশা করে, প্রশাসন দ্রুত মাঠপর্যায়ে কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ডেঙ্গু মহামারি রুখতে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার