জাতীয় প্রযুক্তি শীর্ষ দুই

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তারকৃতরা আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্রের সদস্য

আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী-010135-NewsEdge24

লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হওয়ায় বাংলাদেশে এসে আস্তানা গেড়েছিল একটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্র। চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকার একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে আধুনিক আইটি কার্যালয়ের আদলে ‘সার্ভার ও ওয়ার্কস্টেশন’ স্থাপন করে তারা প্রতারণার কার্যক্রম চালাচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ে চক্রটির ৬৩ সদস্য।

গত বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টারটেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন এবং নেপাল ও ভিয়েতনামের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দামপাড়া পুলিশ লাইনসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কে দুবাইপ্রবাসী মামুন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে ওই চক্রটি অবস্থান করছিল। সেখানে কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম স্থাপন করে তারা সাইবার অপরাধের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। বাংলাদেশে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, চক্রটির সদস্যরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট হ্যাক করে এবং পরে অনলাইন জুয়া ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করছিল।

তিনি বলেন, লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হওয়ায় তারা সেসব দেশে কার্যক্রম চালাতে না পেরে বাংলাদেশকে নতুন ঘাঁটি হিসেবে বেছে নেয়। চট্টগ্রামে তারা প্রতারণার কার্যক্রম শুরু করেছিল মাত্র।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, অভিযানে জব্দ করা কম্পিউটার ও ল্যাপটপের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। আদালতের অনুমতি নিয়ে ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর চক্রটি কার কার সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং কী ধরনের অপরাধে জড়িত ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক কীভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন এবং তাদের ভিসার মেয়াদ ছিল কিনা—তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। কারণ গ্রেপ্তার ৬৩ জনের কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি।

পুলিশের ধারণা, স্থানীয় কোনো সংঘবদ্ধ চক্র তাদের বাড়ি ভাড়া নেওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, তাদের পাসপোর্ট একজন বাংলাদেশির কাছে জমা রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই ব্যক্তির সহযোগিতাতেই তারা বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে বিদেশিরা বৈধ নাকি অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।

অভিযানে ওই বাড়ি থেকে আধুনিক আইটি কার্যালয়ের মতো বিপুলসংখ্যক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—১৩৪টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, মনিটর, কিবোর্ড ও মাউস, একটি প্রিন্টার, ৫টি পেনড্রাইভ এবং বিভিন্ন কোম্পানির ৪টি সিমকার্ড। এছাড়া তাদের কাছ থেকে তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

চট্টগ্রামের খুলশীতে এক ভবন থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রতারণা ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২১, ২২ ও ২৩ ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির মূল হোতা, বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রমের পরিধি এবং স্থানীয় সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জব্দ করা ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের তথ্য বের করার চেষ্টা করবে পুলিশ।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র