অ্যামাজনের নতুন ডেটা সেন্টার, বছরে ৩ কোটি টন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের অনুমতি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। সেই চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নিজেদের ডেটা সেন্টারের জন্য বিশাল একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন করছে অ্যামাজন। শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
টেক্সাসের পেকোস কাউন্টিতে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা হবে ৭ দশমিক ৬৫ গিগাওয়াট। এতে ৩৫টি টারবাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে চালু থাকা সবচেয়ে বড় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যাবে।
কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে প্যাসিফিকো এনার্জি। ‘জি ডব্লিউ র্যাঞ্চ’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের সঙ্গে অ্যামাজনের পরিকল্পিত তিনটি ডেটা সেন্টারের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলে জানিয়েছে বাজারবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লিনভিউ। প্রতিষ্ঠানটি স্যাটেলাইটের ছবি এবং বিভিন্ন নির্মাণ অনুমতির নথি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য সামনে আনে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বছরে ৩ কোটি মেট্রিক টনের বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের অনুমতি পেতে পারে। এই সীমা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের একক কোনো স্থাপনার জন্য এটি হবে সর্বোচ্চ অনুমোদিত নিঃসরণ মাত্রাগুলোর একটি। তবে বাস্তবে কোনো স্থাপনা সাধারণত অনুমোদিত সর্বোচ্চ সীমায় নিয়মিত নিঃসরণ করে না।
এআই খাতের দ্রুত বিকাশের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচলিত বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজেদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথও বেছে নিচ্ছে। অ্যামাজনের টেক্সাস প্রকল্পকে সেই প্রবণতার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অ্যামাজনের দাবি, নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে সাধারণ মার্কিন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলের ওপর এই প্রকল্পের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। কারণ এআই অবকাঠামোর জন্য নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থার খরচ সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিদ্যুৎ কোম্পানির বিরুদ্ধে উঠেছে।
অ্যামাজনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের পুরো খরচ বহনের বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পেকোস কাউন্টিতে পরিকল্পিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাসটি নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযোগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রটিকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে।
পরিবেশগত প্রভাব কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়েছে অ্যামাজন। কোম্পানিটি ওই এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করছে। পাশাপাশি স্থানীয় পানির ওপর চাপ কমাতে পানযোগ্য নয় এমন লবণাক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে টেক্সাসের বাইরে ওহাইওতেও বড় আকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ৯ দশমিক ২ গিগাওয়াট সক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সফটব্যাংকের অংশীদারত্বে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। কেন্দ্রটি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি একটি ডেটা সেন্টারেও বিদ্যুৎ দেবে।
অ্যামাজন অবশ্য জানিয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক এই নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতেও তাদের বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। ‘দ্য ক্লাইমেট প্লেজ’-এর আওতায় ২০৪০ সালের মধ্যে নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতিও বহাল রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ গিগাওয়াট সম্মিলিত সক্ষমতার ৪০টি কার্বনমুক্ত জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে অ্যামাজন। তবে নতুন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকার ও সম্ভাব্য কার্বন নিঃসরণ এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।





