স্পেনে ঢোকার হিড়িক, সেউতায় একদিনেই প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী
একদিনের ব্যবধানে মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ স্পেনের উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত ছিটমহল সেউতায় প্রবেশ করায় বড় ধরনের সীমান্ত সংকটে পড়েছে স্পেন। সমুদ্র সাঁতরে, আবার কেউ কাঁটাতারের বেড়া টপকে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ।
স্পেন সরকারের দাবি, দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের সুযোগ নিয়েই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওই রায়ে বলা হয়েছে, কেউ যদি সমুদ্রপথে সাঁতরে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছায়, তাহলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না। বরং তাকে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ এবং আশ্রয়ের আবেদন করার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
মাদ্রিদের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্র এই আইনি অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে প্রবেশে উৎসাহিত করছে। উন্নত জীবনের আশায় হাজারো মানুষ তাই ঝুঁকি নিয়ে সেউতার দিকে ছুটছেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, এটি শুধু সীমান্ত সংকট নয়, বরং দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর আঘাত। তার মতে, অপরাধী চক্র নিজেদের স্বার্থে আদালতের রায়ের ব্যাখ্যার অপব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতার জন্য মরক্কো সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
ভৌগোলিকভাবে আফ্রিকার উত্তর উপকূলে অবস্থিত সেউতা স্পেনের অংশ হলেও মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। মরক্কোর সঙ্গে এর স্থলসীমান্ত রয়েছে এবং সমুদ্রপথে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্ব হওয়ায় বহু অভিবাসী সাঁতরে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
অনুপ্রবেশকারীদের একজন জানান, শুরুতে তিনি মরক্কোতে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবলেও এখন স্পেনেই থেকে যেতে চান। তার ভাষায়, তিনি আর মরক্কোতে ফিরতে চান না।
তবে যারা কাঁটাতারের বেড়া টপকে প্রবেশ করেছেন, তারা আদালতের ওই রায়ের সুবিধা পাবেন না বলে জানিয়েছে স্পেন সরকার। ইতোমধ্যে স্থল ও সমুদ্রপথে প্রবেশকারীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার স্পেন জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করে আসা ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বড় অংশ স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন।
এদিকে, সেউতা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত ৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অনেকেই সমুদ্রে ডুবে অথবা সীমান্তের ব্রেকওয়াটার ও কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রমের সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। মরক্কোর অংশেও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালেও একই ধরনের ঘটনায় মাত্র দুই দিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন। সেই ঘটনার জেরে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।





