জাতীয় ফিচার রাজনীতি

যুদ্ধক্ষেত্রের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা হবে: ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরের স্মৃতি সংরক্ষণে সারাদেশে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমর সংঘটিত হয়েছে, সেসব স্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, নথিভুক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণে মন্ত্রণালয় কাজ করবে।

শুক্রবার মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর-সৈয়দপুর ইউনিয়নের ফুলহার গ্রামে ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের একটি সম্মুখ সমরের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে ওই যুদ্ধের বিস্তারিত ইতিহাস জানা গেছে।

ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরের স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবে। এসব স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ বা উপযুক্ত স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি যুদ্ধের ইতিহাস লিপিবদ্ধ ও নথিভুক্ত করা হবে।

তিনি জানান, সৈয়দপুর এলাকায় এমন তিনটি সম্মুখ সমরের স্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি তিনি পরিদর্শন করেছেন। পরে এসব স্থানের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস সংরক্ষণ এবং স্মৃতিচিহ্ন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। পরবর্তী সময়ে নানা আন্দোলন-সংগ্রাম হলেও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শই দেশের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দেশের মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তবে সেই সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, অসংখ্য বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। সেই ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একটি জাতি যদি নিজের ইতিহাস না জানে বা তা ধারণ না করে, তবে সে জাতি কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। তাই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণে সরকার কাজ করবে।

সৈয়দপুরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি এখন পুরো বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী। তাই দেশের সব অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান সংরক্ষণে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই।

তবে সৈয়দপুরের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি তাঁর পূর্বপুরুষের নিবাস। তাঁর বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে ধলেশ্বরী নদী সাঁতরে পার হওয়ার পারিবারিক স্মৃতিও রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে এ ইতিহাস তাঁর কাছে আবেগের হলেও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি সারাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান সংরক্ষণে কাজ করে যাবেন।

F Rimon

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র