শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে সিজেপির বড় সাফল্য, তবে ঝুলে রয়েছে বাকি তিন দাবি
টানা আন্দোলনের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) চিঠির কপি শেয়ার করে ধর্মেন্দ্র জানান, বিগত ১০ দিনের ঘটনায় তিনি মর্মাহত এবং দেশের ঐক্য ও সংহতির স্বার্থেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর এই পদত্যাগের পরেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলটির পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে লেখা হয়, “ককরোচদের জয় হলো, জয় হলো গণতন্ত্রের।” তবে সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের একটি দাবি পূরণ হলেও মূল লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
দাবির হালনাগাদ পরিস্থিতি জানিয়ে সিজেপির প্রকাশ করা একটি তালিকা অনুযায়ী, তাদের চারটি প্রধান দাবির মধ্যে কেবল শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি তিনটি দাবি এখনো ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে:
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ: পূরণ হয়েছে।
আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ: বাকি রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া: বাকি রয়েছে।
আরএএফ (RAF) ও দিল্লি পুলিশের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা: বাকি রয়েছে।
প্রশ্নফাঁস রুদ্ধে কঠোর আইনের পথে কেন্দ্র
অন্যদিকে, চলমান ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতি রুখতে কঠোর পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার দ্রুত একটি নতুন বিল পার্লামেন্টে উত্থাপন করতে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ‘পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিন্স) অ্যাক্ট, ২০২৪’ সংশোধনের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত এই আইন পাস হলে প্রশ্নফাঁসের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার মতো কঠোর শাস্তির বিধান থাকছে।
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর যন্তর মন্তরসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এখন তাঁদের বাকি তিন দাবি পূরণের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।





