আগামী মাসেই আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করছে সরকার
দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা, আর্থিক ক্ষমতায়ন ও বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ ডেবিট কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ড সম্পর্কিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ডের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার প্রবাসী কার্ড চালু করা হচ্ছে। এই কার্ড দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া।
উপ-প্রেস সচিব জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে এই ডেবিট কার্ড দেওয়া হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত সব বাংলাদেশি প্রবাসী যাতে এই সুবিধার আওতায় আসেন, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া একই বৈঠকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও সময়োপযোগী ও আধুনিক করার নির্দেশনাও দেন তিনি।
কী কী সুবিধা থাকছে
উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—দেশে-বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি বিমানবন্দর লাউঞ্জ ব্যবহার ও বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট সেবা, বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ছাড়, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডে বিমানবন্দর পিক অ্যান্ড ড্রপ সেবা।
এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারি হাসপাতালে ছাড়ের সুবিধা, কার্ডধারীর মৃত্যুতে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসনের সুযোগ ও বিমা সুবিধা দেওয়া হবে। জমি নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন), নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এই কার্ডধারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
আর্থিক সুবিধার মধ্যে থাকছে রেমিট্যান্সে রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানোসহ সহজে লেনদেনের সুযোগ। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকারসহ ব্যাংক ও সরকারের দেওয়া অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।





