ফাইনাল না পাওয়ার আক্ষেপ ভুলে সান্ত্বনার ট্রফির খোঁজে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স
বিশ্বকাপ জয়ের মূল স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে আগেই। তবে টুর্নামেন্ট থেকে খালি হাতে ফিরতে চায় না ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। ফাইনাল বঞ্চিত হওয়ার তীব্র হতাশা পেছনে ফেলে এবার শান্ত্বনার ‘তৃতীয় স্থান’ নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির বিখ্যাত হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মর্যাদার এই লড়াই।
সেমিফাইনালের মঞ্চে দুই দলই নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। স্পেনের নিখুঁত কৌশলের কাছে পরাস্ত হয়ে ২-০ গোলে বিদায় নেয় ফ্রান্স। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শুরুর লিড ধরে রাখতে না পেরে ২-১ ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় ইংল্যান্ডের।
অনেকে এই ম্যাচটিকে কেবলই ‘আনুষ্ঠানিকতা’ মনে করলেও, দুই দলের কোচই একে দেখছেন পেশাদারিত্ব ও সম্মানের জায়গা থেকে। ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের জার্মান কোচ থমাস টুখেল কিছুটা বাস্তববাদী সুরেই কথা বলেছেন। তিনি স্বীকার করেন, “ফাইনালে খেলার স্বপ্ন ভাঙার পর কোনো ফুটবলারেরই আসলে এই ম্যাচ খেলার মানসিকতা থাকে না। তবে বাস্তবতা আমাদের মেনে নিতেই হবে। দল তার সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করবে।” একই সাথে ফ্রান্সের চেয়ে একদিন কম বিশ্রাম পাওয়ার বিষয়টিও মনে করিয়ে দেন তিনি।
তবে ফ্রান্সের জন্য এই ম্যাচটি আবেগের এক ভিন্ন মাত্রা নিয়ে এসেছে। কারণ, দীর্ঘ ১৪ বছর ফরাসি ডাগআউট সামলানোর পর, এই ম্যাচ দিয়েই জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন কিংবদন্তি কোচ দিদিয়ের দেশ্যম। যাঁর অধীনে ২০১৮ সালে বিশ্বজয় এবং ২০২২ সালে ফাইনাল খেলেছিল ফ্রান্স। বিদায়বেলায় শিষ্যদের কাছ থেকে অন্তত একটি জয় উপহার চান তিনি। ম্যাচ প্রসঙ্গে দেশ্যম বলেন, “কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারাটা হতাশার। তবে এখনও আমাদের সামনে তৃতীয় হওয়ার সুযোগ আছে, আমরা সেটাই অর্জন করতে চাই।”
নজরে গোল্ডেন বুট ও ব্যক্তিগত রেকর্ড:
এই ম্যাচটি রূপ নিতে পারে কিলিয়ান এমবাপ্পের ব্যক্তিগত রেকর্ডের মঞ্চ হিসেবে। বর্তমানে ৮টি গোল নিয়ে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে আছেন এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠাতে পারলেই এককভাবে এই পুরস্কার নিজের করে নিতে পারবেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোল করে ফেলা এমবাপ্পের সামনে সুযোগ থাকছে মেসির ২১ গোলের রেকর্ড স্পর্শ বা ছাড়িয়ে যাওয়ার।
অন্যদিকে, ৬টি করে গোল করা ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহামের সামনেও সুযোগ থাকছে অলৌকিক কিছু করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফিরে আসার। ৩৩ বছরে পা দিতে যাওয়া হ্যারি কেনের জন্য এটিই হয়তো শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। যদিও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই মুখ খোলেননি এই বায়ার্ন মিউনিখ তারকা।
একাদশে বড় পরিবর্তনের আভাস:
টানা ম্যাচ খেলার ক্লান্তি দূর করতে দুই দলই একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে পারে। থমাস টুখেল ইঙ্গিত দিয়েছেন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ মিডফিল্ডার কোবি মাইনুর এই ম্যাচে বিশ্বকাপ অভিষেক হতে পারে। শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে স্ট্রাইকার অলি ওয়াটকিন্সকেও।
ফরাসি শিবিরেও আসতে পারে পরিবর্তন। ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক এন’গোলো কান্তে, যিনি এই আসরে এখনও মাঠে নামার সুযোগ পাননি, তাঁকে বিদায়ী ম্যাচে শুরুর একাদশে রাখতে পারেন দেশ্যম।
শিরোপা না পাওয়ার দুঃখ ভুলে, নিজেদের সম্মান ধরে রাখা এবং ব্যক্তিগত অর্জনের খাতাকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে দুই দল। ফলে মাঠের লড়াই যে জমজমাট হবে, তা বলাই বাহুল্য।





