হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ শিশুর প্রাণহানি
দেশে হামের প্রকোপে চাইল্ড মরটালিটি বা শিশু মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে কোনো শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে হামের লক্ষণ ও আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৮ জনে।
আজ রোববার (২৪ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ নিয়মিত প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠপর্যায়ে অনেক শিশু হামের তীব্র লক্ষণ যেমন—তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ বা দানা, সর্দি, কাশি এবং চোখের প্রদাহ নিয়ে মারা যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা এগুলোকে ‘ক্লিনিক্যাল সাসপেক্টেড’ বা হামের উপসর্গ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। তবে শতভাগ নিশ্চিত হতে ল্যাবরেটরি টেস্ট বা রক্তের পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১৬ জন মারা গেছে, তাদের শরীরে ক্লিনিক্যাল লক্ষণ স্পষ্ট থাকলেও ল্যাব পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার আগেই তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ফলে নতুন করে ‘নিশ্চিত হামে’ মৃত্যুর সংখ্যা আজ শূন্য। কিন্তু উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর এই উল্লম্ফন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বেশ চিন্তায় ফেলেছে।
চলতি বছর দেশের বেশ কয়েকটি জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় টিকাদানের হার তুলনামূলক কম, সেখানে শিশুরা দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা মস্তিস্কের প্রদাহের মতো জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছে, যা তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল উপসর্গ দেখে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আইসোলেশন বা রোগীকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা জরুরি।





