সুবাতাস অর্থনীতিতে: ৩৪.৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের গ্রস বা মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে এখন ৩৪ হাজার ৩২৪ দশমিক ১২ মিলিয়ন বা ৩৪ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান অর্থনীতির এই ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক অগ্রগতির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ডলার সংকটের কারণে দেশের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে রিজার্ভের এই বড় লাফ এক গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক মন্দা, আমদানি ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতির কারণে দেশের রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকি, বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি এবং হুন্ডি প্রতিরোধে নানামুখী পদক্ষেপের কারণে অর্থনীতির এই অন্যতম প্রধান সূচকটি আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে শুরু করেছে। সাংবাদিকতার দীর্ঘ দেড় দশকের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রিজার্ভের এই ধরনের ইতিবাচক মোড় দেশের আমদানিকারক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগায়।
মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে নিজস্ব হিসাবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ীও রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে। ১৯ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আইএমএফের বহুল আলোচিত ‘বিপিএম-৬’ (BPM6) হিসাব পদ্ধতি অনুসরণ করে দেশের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন বা ২৯ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। গ্রস ও নিট—উভয় পদ্ধতির হিসাবই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতার এক শক্তিশালী চিত্র তুলে ধরে।





