হামে একদিনে ঝরল ৮ প্রাণ
সারাদেশে হঠাৎ করেই উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হামজনিত কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি ৭ জন মারা গেছেন সংক্রমণের স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে। বুধবার (১৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশের জনস্বাস্থ্য খাতে নতুন করে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে হামের এই আকস্মিক বিস্তার। বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। যদিও একজনের মৃত্যুর কারণ শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে, কিন্তু অন্য ৭ জনের মৃত্যুর ধরন ও শারীরিক উপসর্গ বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকরা একে হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব হিসেবেই দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম সাধারণত একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে টিকাদানের হারে কিছুটা শিথিলতা এবং গ্রামাঞ্চলে সচেতনতার অভাব এই প্রাদুর্ভাবকে উসকে দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিল উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো হাসপাতালে না পৌঁছানো এবং ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর করার ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে এখন ভিড় বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণত শীতের শেষে হামের প্রকোপ দেখা দিলেও মে মাসের এই তীব্র গরমে এমন প্রাদুর্ভাব কিছুটা অস্বাভাবিক। অনেক শিশু নিউমোনিয়া এবং মস্তিস্কের প্রদাহের মতো জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, যা হামের পরবর্তী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা জেলা পর্যায়ে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছেন। যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম ছিল, সেখানে নতুন করে ‘ক্যাচ-আপ’ ক্যাম্পেইন শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।





