হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে জরুরি নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
হাওর অঞ্চলে সাম্প্রতিক আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ধরনের গড়িমসি নয়, বরং দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল হাওর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন এবং তাদের জন্য পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার রূপরেখা চূড়ান্ত করা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তালিকায় স্বচ্ছতা: অনিয়ম রুখতে জিরো টলারেন্স
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, সহায়তার সুফল যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরাই পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে তালিকা প্রণয়নে যেসব ত্রুটি বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠত, তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সে বিষয়ে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি নির্দেশ দেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে গিয়ে স্বচ্ছ ও নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, হাওরের মানুষের জীবন ও জীবিকা প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। সেখানে একটি ফসলের ওপরই সারা বছরের রুটি-রুজি টিকে থাকে। সেই বোরো ফসল বা ফসলি জমি যখন তলিয়ে যায়, তখন কৃষকের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাদের পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জোগানো।
দ্রুত সহায়তা বিতরণের রূপরেখা
প্রধানমন্ত্রী কেবল তালিকা করার নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং সহায়তার অর্থ বিতরণে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পৌঁছে যাবে। সভায় উপস্থিত মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের তিনি নির্দেশ দেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যেন ত্রাণ বা আর্থিক সহায়তা আটকে না থাকে।
ভৌগোলিক কারণেই বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরগুলো দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অসময়ে অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢল এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের ওপরও আলোকপাত করেন। তিনি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দ্রুত ও কঠোর নির্দেশনা ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে হাওরের বিপন্ন কৃষক পরিবারগুলো অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





