‘একেক দিন একেক কথা বলে সিরিয়াস হওয়া যায় না’ :ট্রাম্পকে কড়া বার্তা ম্যাক্রোঁর
ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দখলে সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান জানানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘অবাস্তব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। দক্ষিণ কোরিয়া সফরে সাংবাদিকদের সামনে এ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন অবস্থান। সম্প্রতি এক টেলিভিশন ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্রদেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়। তার অভিযোগ, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না তার মিত্ররা।
এই অবস্থানের জবাবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট ভাষায় জানান, সামরিক শক্তি দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ ‘মুক্ত’ করার ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দক্ষিণ কোরিয়া সফরে থাকা অবস্থায় তিনি বলেন, “একটি গুরুতর আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় ধারাবাহিক ও সুসংগত নীতি প্রয়োজন। প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা যায় না।”
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। এই পথটি অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। এমন একটি প্রেক্ষাপটে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন ম্যাক্রোঁ।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করা। তিনি বলেন, “নিরাপদ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে হলে সংঘাত কমাতে হবে, বাড়াতে নয়।” তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ‘আশ্বাসমূলক’ সামরিক উপস্থিতি রাখা যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাক্রোঁর এই অবস্থান ইউরোপীয় কূটনৈতিক নীতিরই প্রতিফলন, যেখানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ট্রাম্পের অবস্থান অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, যা মিত্রদেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি তৈরি করছে।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে কৌশলগত দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই মতপার্থক্য ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই বিতর্ক শুধু একটি আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের প্রশ্নও তুলে ধরছে। সামরিক শক্তি নাকি কূটনীতি—কোন পথ বেছে নেবে বিশ্ব, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।





