জ্বালানিসংকটে নতুন শিক্ষা কৌশল: চালু হতে পারে ‘ব্লেন্ডেড ক্লাস’ ব্যবস্থা
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে (বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া) অনলাইন ও সশরীর ক্লাস মিলিয়ে ‘ব্লেন্ডেড’ পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সপ্তাহে ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীর ক্লাস পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ বিবেচনায় আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় সপ্তাহের ক্লাসগুলো জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে সাজানো হবে। অর্থাৎ এক দিন অনলাইন ক্লাস হলে তার পরদিন সশরীর ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শনিবার যদি অনলাইন ক্লাস হয়, তাহলে রোববার শিক্ষার্থীদের সরাসরি ক্লাসে অংশ নিতে হবে।
এই পরিকল্পনা মূলত মহানগর এলাকার স্কুল ও কলেজগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। শহরাঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।
শিক্ষাবিদদের একাংশ বলছেন, ব্লেন্ডেড পদ্ধতি নতুন নয়; করোনাকালে এর প্রাথমিক অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবে সেটি ছিল জরুরি পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া, আর এবার এটি পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ। সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে এটি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় অভ্যস্ত করে তুলতে পারে।
তবে কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সংযোগ, ডিভাইসের প্রাপ্যতা এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। শহরের সব পরিবারে সমান প্রযুক্তিগত সুবিধা না থাকায় বৈষম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
অভিভাবকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় ও খরচ কমবে। আবার অনেকে আশঙ্কা করছেন, ঘরে বসে পড়াশোনার মান বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
এদিকে শিক্ষকরা বলছেন, ব্লেন্ডেড পদ্ধতি কার্যকর করতে হলে আগে থেকেই প্রশিক্ষণ, পাঠ পরিকল্পনা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। শুধুমাত্র ক্লাসের মাধ্যম বদলালেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
বর্তমানে এই প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে। অনুমোদন পেলে দ্রুতই পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষা খাতে এমন অভিযোজনমূলক উদ্যোগ সময়োপযোগী। তবে সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং সমন্বিত নীতিমালা জরুরি।





