জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বর্ণিল কুচকাওয়াজ, আকাশে ফ্লাইপাস্ট
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বৃহস্পতিবার বর্ণিল কুচকাওয়াজ ও মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন।
স্বাধীনতার ৫৫তম বছরে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উদযাপন আরও একবার জাতির ঐক্য, গর্ব ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠল। রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত কুচকাওয়াজ ও ফ্লাইপাস্টে অংশ নেয় সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাডেটরা। পুরো আয়োজনটি ছিল শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য প্রদর্শনী।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় বাজানো হয় জাতীয় সংগীত, উড়ানো হয় জাতীয় পতাকা—যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
কুচকাওয়াজে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট তাদের প্রশিক্ষণ, সমন্বয় এবং কৌশলগত সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরে। সুসজ্জিত পোশাক, সুনির্দিষ্ট পদচারণা এবং নিখুঁত তাল-লয়ে মার্চপাস্ট দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি নারী সদস্যদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য, যা দেশের অগ্রগতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আকাশে মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার নির্ধারিত ফরমেশনে উড়ে গিয়ে আকাশে লাল-সবুজ ধোঁয়ার রেখা তৈরি করে। এই দৃশ্য উপস্থিত হাজারো দর্শনার্থীর মধ্যে উচ্ছ্বাস ও গর্বের আবেগ ছড়িয়ে দেয়।
জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমানসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যময় করে তোলে।
এছাড়া সাধারণ মানুষও বিপুল উৎসাহে এই আয়োজন উপভোগ করতে প্যারেড স্কয়ারে ভিড় করেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। অনেকেই জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে দেশপ্রেমের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একই সঙ্গে দেশের সামরিক ও বেসামরিক সক্ষমতার বার্তা বিশ্বদরবারেও পৌঁছে দেয়।
স্বাধীনতা দিবসের এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন শুধু অতীতের ত্যাগের স্মারক নয়, বরং ভবিষ্যতের অঙ্গীকারও বহন করে।





