স্ট্র্যাটকম সামিটে যোগ দিতে ইস্তাম্বুলে তথ্যমন্ত্রী
তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন সামিট (স্ট্র্যাটকম) ২০২৬’-এ অংশ নিতে বুধবার গভীর রাতে ঢাকা ছেড়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে বৈশ্বিক যোগাযোগ কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌশলগত যোগাযোগ ও তথ্যপ্রবাহের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে তুরস্কের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন সামিট (স্ট্র্যাটকম) ২০২৬’। এতে অংশ নিতে বুধবার (২৫ মার্চ) রাত পৌনে ২টার দিকে ঢাকা ত্যাগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের কনরাড বসফরাস হোটেলে ২৭ ও ২৮ মার্চ দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বৈশ্বিক গণমাধ্যম, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৌশলগত যোগাযোগের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সৌদি আরবের জেদ্দা হয়ে ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে মন্ত্রীর। সেখানে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় তিনি তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। প্রবাসী বাংলাদেশি ও কূটনৈতিক মহলের সঙ্গে এই আয়োজনকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সম্মেলনের মূল কার্যক্রম শুরু হবে ২৭ মার্চ। ওইদিন বেলা ১১টা ২০ মিনিটে প্রথম প্যানেল আলোচনায় অন্যতম আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেবেন তথ্যমন্ত্রী। এই প্যানেলে তার সঙ্গে অংশ নেবেন উত্তর সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহসিন এরতুগ্রুলোগ্লু, সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা আলমুস্তাফা এবং কাজাখস্তানের সংস্কৃতি ও তথ্য উপমন্ত্রী কানাত ঝুমাবায়েভিচ ইসকাকভ। প্যানেলটি সঞ্চালনা করবেন আন্তর্জাতিক সম্প্রচার মাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের সিনিয়র উপস্থাপক অ্যালিচান আয়ানলার।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কৌশলে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। বর্তমান বিশ্বে তথ্যযুদ্ধ, ভুয়া খবর প্রতিরোধ এবং কূটনৈতিক বার্তা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কৌশলগত যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সক্রিয় উপস্থিতি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া, সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অন্যান্য দেশের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রবাহের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন অপরিহার্য।





