৩০ রোজা পূর্ণ করছে সৌদি আরব: মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল ফিতর শুক্রবার
অপেক্ষার প্রহর আরও একদিন দীর্ঘ হলো। সৌদি আরবের আকাশে বুধবার (১৮ মার্চ) পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের দৃষ্টি যে ভূখণ্ডের দিকে নিবদ্ধ ছিল, সেই সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামী শুক্রবার, ২০ মার্চ। দেশটির জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, এ বছর মধ্যপ্রাচ্যে রমজান মাস পূর্ণ হচ্ছে ৩০ দিনে।
দীর্ঘ হচ্ছে সিয়াম সাধনা
বুধবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের তামিড় ও সুদাইরসহ বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হলেও আকাশ পরিষ্কার থাকা সত্ত্বেও কোথাও নতুন চাঁদের দেখা মেলেনি। রাজকীয় আদালতের নির্দেশনায় গঠিত চাঁদ দেখা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) হবে রমজান মাসের শেষ দিন। অর্থাৎ, শুক্রবার সকালে ঈদের জামাতে শামিল হবেন পুণ্যার্থীরা।
খালিজ টাইমস ও গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আগাম পূর্বাভাস সত্যি প্রমাণ করেই এবার ৩০ রোজা পূর্ণ হচ্ছে। সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পরই বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে। সেই হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে শনিবার ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হলো।
উৎসবের আমেজ ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি
চাঁদ দেখা না যাওয়ার খবরে উৎসবের প্রস্তুতিতে যেন আরও কিছুটা বাড়তি সময় পেলেন বাসিন্দারা। জেদ্দা, রিয়াদ ও মক্কার বিপণিবিতানগুলোতে এখন কেনাকাটার শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। দীর্ঘ এক মাস আত্মশুদ্ধির পর শাওয়ালের নতুন চাঁদ বয়ে আনে আনন্দের বার্তা। সৌদি আরবের প্রধান দুই পবিত্র মসজিদ—মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে ঈদের বিশাল জামাতের জন্য ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে চার দিনের সরকারি ছুটির ঘোষণা দিয়েছে। ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরগুলোতে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। এবার ৩০ রোজা পূর্ণ হওয়ায় মানুষের মাঝে কিছুটা ক্লান্তি থাকলেও পূর্ণ সওয়াব হাসিলের তৃপ্তিই বেশি দেখা যাচ্ছে।
এক নজরে সৌদির ঈদ ও চাঁদ দেখার তথ্য:
-
চাঁদ দেখার তারিখ: ১৮ মার্চ, বুধবার (চাঁদ দেখা যায়নি)।
-
৩০তম রোজা: ১৯ মার্চ, বৃহস্পতিবার।
-
ঈদের দিন: ২০ মার্চ, শুক্রবার।
-
মূল সূত্র: সৌদি সুপ্রিম কোর্ট ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।
-
ভৌগোলিক প্রভাব: সৌদিতে শুক্রবার ঈদ হওয়ায় সাধারণত বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় শনিবার ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও জ্যোতির্বিজ্ঞান
প্রতি বছরই রমজান ও ঈদের তারিখ নিয়ে বিশ্বজুড়ে এক ধরনের আগ্রহ কাজ করে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এখন কয়েক মাস আগেই চাঁদের অবস্থান নির্ভুলভাবে গণনা করা সম্ভব। তবে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী ‘খালি চোখে’ চাঁদ দেখার যে ঐতিহ্য, তা বজায় রাখতেই প্রতি বছর সুপ্রিম কোর্টের অধীনে এই পর্যবেক্ষণ আয়োজন করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোও সাধারণত সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ঘোষণার সাথে সংহতি প্রকাশ করে শুক্রবারই ঈদ পালন করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এবার চাঁদের স্থায়িত্ব কম থাকায় বুধবার তা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ ছিল। ফলে ৩০ রোজা পূর্ণ হওয়াটা ছিল অনেকটা অনুমেয়।





