নতুন পোশাকের ঘ্রাণে উৎসবের আবাহন: কেনাকাটায় টইটম্বুর টিকাটুলির ‘রাজধানী সুপার মার্কেট’
ক্যালেন্ডারের পাতায় ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই ঢাকার বাতাসে এখন নতুন পোশাকের ঘ্রাণ। নগরীর অভিজাত শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাত—সর্বত্রই উৎসবের আমেজ। তবে দক্ষিণ ঢাকার কেনাকাটার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত টিকাটুলির ঐতিহ্যবাহী ‘রাজধানী সুপার মার্কেট’ এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচার ধুম।
উৎসবের ভরকেন্দ্র যখন রাজধানী মার্কেট
যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল বিপণিবিতানটি বছরের পর বছর ধরে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে আছে। যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, শ্যামপুর ও ওয়ারীসহ আশপাশের এলাকার কয়েক লাখ মানুষের কেনাকাটার প্রথম পছন্দ এটি। সরেজমিনে দেখা যায়, মার্কেটের প্রতিটি গলি এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাকডাকে মুখর। নারী, পুরুষ ও শিশুদের কলতানে মুখরিত এই বাজারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার শুরুর দিকে বিক্রি কিছুটা ঢিমেতালে থাকলেও ১০ রমজানের পর থেকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভিড়। বিশেষ করে পোশাকের বৈচিত্র্য এবং সাশ্রয়ী দামের কারণে এই মার্কেটটি সব শ্রেণির মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। এখানে যেমন হাজার টাকার শাড়ি পাওয়া যায়, তেমনি পাওয়া যায় বিশ হাজার টাকার লেহেঙ্গাও।
কালেকশনে আধুনিকতার ছোঁয়া
এবারের ঈদে রাজধানী সুপার মার্কেটে নারীদের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানি লন, অর্গানজা এবং ভারতীয় সারারা-গারারা সেট। অন্যদিকে, তরুণদের ঝোঁক বাড়ছে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির পাঞ্জাবি ও পলো টি-শার্টের দিকে। শিশুদের পোশাকে রঙের বৈচিত্র্য আর কার্টুন থিমের কাজ বরাবরের মতোই জনপ্রিয়।
একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী জানান, “রাজধানী মার্কেটের বিশেষত্ব হলো এখানে ক্রেতাদের চাহিদা বুঝে স্টক রাখা হয়। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা এখানে এক ছাদের নিচে জুতো থেকে শুরু করে কসমেটিকস—সবই পেয়ে যান।”
রাজধানী মার্কেটের এবারের ঈদের চিত্র: এক নজরে
বাজারের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে যে প্রধান দিকগুলো উঠে এসেছে:
-
বিচিত্র পণ্য: একই ছাদের নিচে শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক, কসমেটিকস এবং গয়নার বিশাল সমাহার।
-
ভৌগোলিক সুবিধা: ফ্লাইওভার সংলগ্ন হওয়ায় যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা অঞ্চলের মানুষের জন্য যাতায়াত অত্যন্ত সহজ।
-
সাশ্রয়ী দাম: নিউ মার্কেট বা গাউছিয়ার মতো এখানেও দরদাম করে সাধ্যের মধ্যে সেরা পণ্যটি পাওয়ার সুযোগ থাকে।
-
নিরাপত্তা ব্যবস্থা: শেষ মুহূর্তের ভিড় সামলাতে মার্কেট কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি সতর্কতা।
কেনাকাটার চ্যালেঞ্জ ও ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা
বিশাল এই ভিড়ের মাঝে কেনাকাটা করা মোটেও সহজ নয়। ডেমরা থেকে আসা এক নারী ক্রেতা জানান, “মেয়ের জন্য জামা কিনতে এসেছি। ভিড় অনেক বেশি হলেও এখানে দামটা হাতের নাগালে থাকে। তাছাড়া নতুন নতুন ডিজাইনের সংগ্রহ অনেক বেশি।”
তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মার্কেটের ভেতরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সরু গলিগুলোতে চলাচলের অসুবিধা নিয়ে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। তা সত্ত্বেও ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে নতুন পোশাকের টানে সব কষ্ট উপেক্ষা করে মানুষ ছুটছেন বিপণিবিতানটিতে। বিক্রেতারা আশা করছেন, চাঁদ রাত পর্যন্ত বিক্রির এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভাঙবে এবারের মুনাফা।





