জাতীয় ফিচার

উপাসনালয়ের সেবাদানকারীদের জন্য সরকারি সম্মানি কর্মসূচির উদ্বোধন

উপাসনালয়ের সেবাদানকারীদের জন্য সরকারি সম্মানি কর্মসূচির উদ্বোধন

দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় সেবাদানকারীদের জন্য নতুন সম্মানি কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচি চালু করেন।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা জোরদার করতে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জায় দায়িত্ব পালনকারী ধর্মীয় কর্মীদের জন্য সম্মানি প্রদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও উপাসনালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে সম্মানির প্রতীকী চেক তুলে দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সেবাদানকারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু উপাসনার স্থান নয়; বরং এগুলো সামাজিক সম্প্রীতি, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব প্রতিষ্ঠানে যারা দায়িত্ব পালন করেন, তাদের অবদান সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সম্মানি কর্মসূচির আওতায় মসজিদের জন্য মোট ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মসজিদের ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন পাবেন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা।

অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট হারে সম্মানি দেওয়া হবে। মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জার জন্য মোট ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মন্দিরের ক্ষেত্রে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত পাবেন ৩ হাজার টাকা।

বৌদ্ধবিহারে বিহার অধ্যক্ষকে দেওয়া হবে ৫ হাজার টাকা এবং বিহার উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩ হাজার টাকা। একইভাবে গির্জার ক্ষেত্রে যাজককে ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী যাজককে ৩ হাজার টাকা করে সম্মানি দেওয়া হবে।

ধর্মীয় নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত অনেক কর্মী সীমিত আয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকারের এই উদ্যোগ তাদের কাজের প্রতি স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন ধর্মীয় নেতা বলেন, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হলে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।

মূল তথ্য সংক্ষেপে:

  • রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মানি কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
  • মসজিদের জন্য মোট ১০ হাজার টাকা সম্মানি বরাদ্দ।
  • ইমাম পাবেন ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম ২ হাজার টাকা।
  • মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জার জন্য মোট ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ।
  • পুরোহিত, বিহার অধ্যক্ষ ও যাজকরা পাবেন ৫ হাজার টাকা করে সম্মানি।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা জোরদার করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মনে করেন।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র