‘নারীর হাতে শক্তির প্রতীক’, ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে ক্ষমতায়নের বার্তা মির্জা ফখরুলের
নারীদের ক্ষমতায়নই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নে ৫৯০ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন তিনি।
নারীর ক্ষমতায়নকে সামনে রেখে নতুন উদ্যোগ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কথা তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ঈদগাহ আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের সামাজিক ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও শক্তিশালী ভূমিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৯০ জন নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন মির্জা ফখরুল। কার্ড গ্রহণকারী নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পরিবারের মূল দায়িত্ব বহন করেন নারীরাই। তাই তাদের হাতেই এই কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের সক্ষমতা ও অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “বাড়ির প্রধান নারীরাই এই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তিনি এটি কী কাজে ব্যবহার করবেন, সেটি পরের বিষয়। কিন্তু তার হাতে একটি কার্ড থাকবে—যা তার শক্তির প্রতীক। এটি যেন একটি অস্ত্রের মতো, যার মাধ্যমে তিনি বলতে পারবেন—আমার শক্তি আছে, আমার ফ্যামিলি কার্ড আছে।”
তার মতে, একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারীর সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নারীরা যদি ক্ষমতায়িত হন, তবে একটি পরিবারই শুধু নয়, পুরো সমাজই উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা মনে করেন, নারীদের হাতে সরাসরি সুবিধা বা পরিচয়ের কার্ড তুলে দিলে পরিবারে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়বে।
তবে বক্তৃতার একপর্যায়ে দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, উন্নয়ন বা সামাজিক কর্মসূচির নামে কেউ যদি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, তবে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, “আমরা এখানে কাজ করতে এসেছি এবং কাজ করব। যদি দেখা যায় কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হয়েছে, তার কোনো ক্ষমা নেই। জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ খেলতে পারবে না—এ ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।”
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ পর্যায়ে নারীদের হাতে সরাসরি পরিচয়ভিত্তিক বা সুবিধাভিত্তিক কার্ড তুলে দেওয়া হলে তা সামাজিক ক্ষমতায়নের একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। এতে নারীরা শুধু সুবিধাভোগী হিসেবেই নয়, বরং পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পান।





