‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ ট্রাম্প? ঘুম দিবসে ডেমোক্র্যাটদের কটাক্ষে সরগরম মার্কিন রাজনীতি
জাতীয় ঘুম দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ আখ্যা দিয়ে ভাইরাল হওয়া কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। এতে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মার্কিন রাজনীতিতে কটাক্ষ, ব্যঙ্গ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ‘ট্রোলিং’ এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। তবে জাতীয় ঘুম দিবসকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সাম্প্রতিক কৌতুকপূর্ণ আক্রমণ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার ডেমোক্রেটিক পার্টির অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রাম্পকে ‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ হিসেবে উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ‘কমান্ডার-ইন-চিফ’ বলা হয়। সেই শব্দের ব্যঙ্গাত্মক রূপ হিসেবে ‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ ব্যবহার করে ট্রাম্পকে ঘুমপ্রবণ নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।
এই কটাক্ষের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ছবি ও ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, বিভিন্ন জনসমক্ষে বা বৈঠকের সময় ট্রাম্পকে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ছবি নতুন করে আলোচনায় আসে।
সেই বৈঠকে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। ছবিতে দেখা যায়, আলোচনার মাঝেই ৭৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চোখ বন্ধ করে বসে আছেন। এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সামনে আনেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সহযোগীদের পরিচালিত একটি অ্যাকাউন্ট।
এরপর থেকেই বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ডেমোক্র্যাটদের পোস্টের পর হাজার হাজার ব্যবহারকারী বিভিন্ন মিম, কৌতুক এবং ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য শেয়ার করতে শুরু করেন। কেউ কেউ ট্রাম্পকে নিয়ে ঘুম বিষয়ক নানা রসিকতাও করেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকান নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রেসিডেন্টকে ছোট করতে এই ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন ট্রাম্পের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে বলেন, “তিনি আমার দেখা সবচেয়ে কর্মঠ প্রেসিডেন্টদের একজন।” জনসনের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প খুব কম ঘুমান এবং প্রায়ই গভীর রাতেও সরকারি কাজের খোঁজখবর নেন।
তার ভাষায়, “অনেক সময় রাত ২টা বা ভোর ৭টার দিকে তিনি ফোন করে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান। তার এই অদম্য কাজের অভ্যাসই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।”
ট্রাম্পের সমর্থকরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের মতে, একজন নেতার সাময়িকভাবে চোখ বন্ধ থাকা মানেই তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন—এমন ধারণা করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।





