সংকট আশঙ্কায় ফিলিং স্টেশনে সীমা বেঁধে দিল বিপিসি
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করছেন মানুষ। এ পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করেছে বিপিসি।
শুক্রবার (৬ মার্চ) জারি করা এক নির্দেশনায় বিপিসি জানিয়েছে, অস্বাভাবিক চাহিদা ও আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুতের প্রবণতা ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রতিফলন দেশীয় বাজারেও দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে যানবাহনভিত্তিক নির্দিষ্ট সীমার বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা যাবে না। এতে করে একদিকে যেমন অযৌক্তিক মজুত রোধ করা যাবে, অন্যদিকে সীমিত সরবরাহের মধ্যে সবার জন্য জ্বালানি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সরেজমিনে রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, অনেক গাড়িচালক ও মোটরসাইকেল আরোহী আগেভাগেই ট্যাংক ভর্তি করার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ আবার অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করার চেষ্টাও করছেন। ফলে অনেক জায়গায় লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই আতঙ্ক থেকেই অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনতে চাইছেন। কিন্তু এতে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে তেলের মজুত একেবারে সংকটজনক অবস্থায় না থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, যদি অপ্রয়োজনীয় মজুত বন্ধ করা যায়, তবে বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হবে।
বিপিসির নির্ধারিত জ্বালানি সরবরাহ সীমা (প্রতিদিন):
- মোটরসাইকেল: সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন
- ব্যক্তিগত গাড়ি: সর্বোচ্চ ১০ লিটার
- এসইউভি (জিপ) ও মাইক্রোবাস: ২০–২৫ লিটার
- পিকআপ বা লোকাল বাস: ৭০–৮০ লিটার ডিজেল
- দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাক: ২০০–২২০ লিটার
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি বাজারে আতঙ্কজনিত কেনাকাটা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অনেক সময় সরবরাহে প্রকৃত সংকট তৈরি হওয়ার আগেই আতঙ্কের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখা দেয়। তাই সচেতন আচরণ এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
অন্যদিকে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহে সীমা নির্ধারণের ফলে কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক অসুবিধা তৈরি হতে পারে। তবে সরকার যদি পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখে, তাহলে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কম।





