জাতীয় ফিচার

৪ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পেলো নতুন সচিব

৪ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পেলো নতুন সচিব

সরকার চারজন অভিজ্ঞ সাবেক কর্মকর্তাকে এক বছরের চুক্তিতে সচিব পদে নিয়োগ দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নিয়োগ ঘোষণা করা হয়।

এই পদগুলো গুরুত্বপূর্ণ খাতে—কৃষি, স্থানীয় সরকার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা—যেখানে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব সচিবের ওপর ন্যস্ত।

নতুন সচিবরা হলেন মো. শহীদুল হাসান (স্থানীয় সরকার বিভাগ), রফিকুল আই মোহাম্মদ (কৃষি মন্ত্রণালয়), আবদুল খালেক (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ) এবং মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী (স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ)। সবাই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, যাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এখন আবার কাজে লাগানো হচ্ছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুসারে এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে তারা দায়িত্ব পালন করবেন, এবং এ সময় অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারবেন না। অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রে নির্ধারিত হবে।

এই নিয়োগের পটভূমি বিবেচনা করলে দেখা যায়, নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনে দ্রুত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে রদবদল। কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে, আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে শূন্যপদ পূরণ করা হচ্ছে।

এতে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা স্পষ্ট। বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা—এই খাতগুলো জনগণের সরাসরি সেবার সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় সরকার বিভাগে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

এই চারজনের মধ্যে মো. শহীদুল হাসানের নাম স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে পরিচিত। তিনি পূর্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। রফিকুল আই মোহাম্মদ কৃষি খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছেন, যখন দেশ খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

আবদুল খালেক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে নতুন দিশা দিতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে যোগ দিচ্ছেন এমন সময়ে যখন স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার ও দক্ষতা বাড়ানোর দাবি উঠেছে।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সরকারের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এতে অবসরপ্রাপ্তদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়, একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তাদের জন্য পদোন্নতির পথ খোলা থাকে। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে। এক বছরের চুক্তি কি যথেষ্ট সময় দিতে পারবে বড় সংস্কারের জন্য? এই নিয়োগ কি প্রশাসনে স্থায়িত্ব আনবে, নাকি অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হবে?

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ নতুন সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে স্পিচ রাইটার ও উপ-প্রেস সচিব নিয়োগও হয়েছে, যা প্রশাসনিক ও যোগাযোগ কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রয়াস।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র