বিএনপি ৪৯.৯৭, জামায়াত ৩১.৭৬; নতুন সরকারের কাউন্টডাউন শুরু!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়েছে বিএনপি, আর জামায়াত পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট—এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ইসির জনসংযোগ শাখা ফলাফলের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করে। ইতোমধ্যে বিএনপি জোট ২১২ আসন নিশ্চিত করে সরকার গঠনের পথে।
ইসি জানায়, একাদশ ঘণ্টার গণনা ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। অপরদিকে ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছে। বাকি আসনগুলোতে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য, ভোটগ্রহণ ছিল শান্তিপূর্ণ এবং অধিকাংশ কেন্দ্রে সন্তোষজনক উপস্থিতি ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিন পর সংসদে শক্তিশালী বিরোধী কণ্ঠ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের সমন্বয়ে এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভোটের ব্যবধান ও আসনসংখ্যা—দুটিই দেখাচ্ছে যে ভোটাররা স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে নতুন সংসদ ও সরকার। এরপরই মন্ত্রিপরিষদ গঠন, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বণ্টন এবং সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হবে। রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে—কে হতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং কেমন হবে অর্থনীতি ও প্রশাসনে সরকারের প্রথম দিকের অগ্রাধিকার।
নির্বাচনের মূল চিত্র এক নজরে:
- বিএনপি পেয়েছে ৪৯.৯৭% ভোট এবং ২১২টি আসন।
- জামায়াত পেয়েছে ৩১.৭৬% ভোট।
- ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।
- ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে এমপিদের, বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ।
ভোটের হার এবং আসন বণ্টনের এই ফলাফল ইঙ্গিত করছে, আগামী সংসদে নীতিনির্ধারণে বিএনপি জোটের প্রভাব থাকবে নিরঙ্কুশ। তবে বিরোধী জোটের ৭৭টি আসন সংসদে কার্যকর বিতর্ক ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।





