‘নিষেধাজ্ঞা উঠলে ইউরেনিয়াম মজুত ইস্যুতে সমঝোতায় প্রস্তুত ইরান’
যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা দৃশ্যমান হলে চুক্তির পথে অগ্রগতি সম্ভব।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, একতরফা ও বহুপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা তাদের অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে এবং কূটনৈতিক সমঝোতার পরিবেশ নষ্ট করেছে। তাখত-রাভাঞ্চি বলেন, “পারস্পরিক আস্থা ছাড়া কোনো চুক্তিই টেকসই হয় না। যুক্তরাষ্ট্র যদি বাস্তব পদক্ষেপ নেয়, আমরা আলোচনায় গঠনমূলক অবস্থান নেব।” তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যু ঘিরে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের টানাপোড়েন কয়েক বছর ধরেই চলছে। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি—Joint Comprehensive Plan of Action (জেসিপিওএ)—এর মাধ্যমে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপে সম্মত হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়ে পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এর পর থেকে তেহরান ধাপে ধাপে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বর্তমান অবস্থান কূটনৈতিক দরকষাকষির কৌশলও হতে পারে। কারণ নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে দেশটির মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা আশঙ্কা করে যে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—যদিও তেহরান বারবার বলেছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা—International Atomic Energy Agency (আইএইএ)—ইরানের কর্মসূচি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। সংস্থাটি অতীতে জানায়, ইরান চুক্তিতে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। তবে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেই কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ইস্যু কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক কূটনীতির ওপর এর প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেলবাজারের অস্থিরতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষ যদি ‘ধাপে ধাপে আস্থা গড়ে তোলার’ কৌশল নেয়—যেমন আংশিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে নির্দিষ্ট মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত—তবে সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ঘাটতি দূর করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।





