ভোটকেন্দ্র দখলে এলে শক্ত হাতে প্রতিহত করুন :ঝালকাঠিতে জামায়াত আমির
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক মাঠ। দীর্ঘ দেড় দশক পর ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষকে সাহসী বার্তা দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের পেশিশক্তি বা অনিয়মের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। যদি কেউ ভোট কেড়ে নিতে আসে, তবে জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করার ডাক দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোট আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “অতীতের মতো দিনের ভোট রাতে করা কিংবা জনগণের রায় ছিনতাই করার দিন শেষ।
এবার যদি কেউ ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা চালায় বা সাধারণ মানুষকে ভোটদানে বাধা দেয়, তবে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করতে হবে।”
আন্দোলনকারীদের অভয় দিয়ে তিনি এক ব্যতিক্রমী ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “জনগণ যখন নিজের অধিকার রক্ষায় রুখে দাঁড়াবে, তখন যদি কোনো মামলা হয়, তবে সেই মামলার সকল দায় আমি নিজের ওপর নিতে প্রস্তুত। আপনারা নির্ভয়ে আপনাদের ভোটাধিকার রক্ষা করুন, শফিকুর রহমান আপনাদের পাশে আছে।”
শহীদ হাদির রক্ত ও ইনসাফ কায়েমের অঙ্গীকার
ঝালকাঠির স্থানীয় প্রেক্ষাপট টেনে জামায়াত আমির আবেগঘন কণ্ঠে স্মরণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নিহত মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে। তিনি বলেন, “হাদি এই জনপদের সাহসী সন্তান। আধিপত্যবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, সেই রক্তের দায় রাষ্ট্রকে নিতেই হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে দরিদ্র মানুষ আদালতে গিয়ে খালি হাতে ফিরবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, বিগত শাসনামলে দেশ থেকে পাচার হওয়া ২৮ লক্ষ কোটি টাকা ফিরিয়ে এনে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। দুর্নীতি ও দখলদারিত্বমুক্ত নতুন এক বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা এমন রাষ্ট্র গড়তে চাই যেখানে একজন নারী গভীর রাতেও নিরাপদে পথ চলতে পারবেন।”
বক্তব্যে তিনি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি বলেন, দেশ রক্ষায় যারা জীবন বাজি রাখেন, তাদের ন্যায্য মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে যাতে তারা কারও লেজুড়বৃত্তি না করে দেশের জন্য সততার সাথে কাজ করতে পারেন।
জনসভার শেষে তিনি ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ আসনের জোট মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সাধারণ মানুষকে দলে দলে কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।





