নির্বাচনের পর মাত্র ৩-৪ দিনের মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তর: প্রেস সচিব
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজয়ীদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সীমা ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনের পর ১৫ অথবা ১৬ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কোনো অপ্রত্যাশিত কারণে তা সম্ভব না হলে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বৃহস্পতিবার বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই রোডম্যাপ স্পষ্ট করেন।
এই ঘোষণার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্ট বার্তা দিল—এবারের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দীর্ঘসূত্রিতা বা অনিশ্চয়তার কোনো সুযোগ থাকছে না। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এত অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের এমন দৃঢ় অঙ্গীকার খুব কমই দেখা গেছে।
প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফলাফলের সারসংক্ষেপ সরকারের কাছে হস্তান্তরের পরপরই রাষ্ট্রপতির কাছে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। সংসদ অধিবেশনের দিনই নতুন সরকার গঠন ও শপথের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য সব ধরনের প্রশাসনিক ও প্রটোকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এই টাইমলাইনের গুরুত্ব আরও বাড়ছে এ কারণে যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের পর দেশের সামনে থাকবে মাত্র ছয়দিন। এই ছয় দিনে ফল ঘোষণা, বিজয়ীদের তালিকা চূড়ান্তকরণ, সংসদ অধিবেশন আহ্বান, শপথ ও ক্ষমতা হস্তান্তর—সবকিছু সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি ধাপে খুবই দ্রুত ও নির্ভুল কাজ করতে হবে।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অতি সংক্ষিপ্ত সময়সীমা একদিকে যেমন অন্তর্বর্তী সরকারের দ্রুত প্রস্থানের ইচ্ছার প্রতিফলন, অন্যদিকে তেমনই নতুন সরকারের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ মন্ত্রিসভা গঠন, মন্ত্রণালয় বণ্টন, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত—এসব কাজের বড় অংশই প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে।





