আগের মতোই নির্বাচন নিয়ে ভারত ষড়যন্ত্র করছে: মালিবাগে নাহিদ ইসলাম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যখন উত্তপ্ত, ঠিক তখন প্রতিবেশী দেশ ভারতের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি তোপ দাগলেন ঢাকা-১১ আসনের জোট সমর্থিত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বুধবার সকালে রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগকালে তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েকটি নির্বাচনের মতো এবারও ভারত পর্দার আড়াল থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগের অলিগলিতে নেতা-কর্মীদের নিয়ে লিফলেট বিতরণ ও ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ে অংশ নেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি প্রতিবেশী দেশের কূটনিতিকদের সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাহিদ বলেন, “আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, আমাদের নির্বাচন ঘিরে প্রতিবেশী দেশ আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের কূটনীতিকরা বিভিন্ন মাধ্যমে এমন সব মন্তব্য করছেন, যা একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপের শামিল।”
তিনি আরও যোগ করেন, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের ‘ভোট কারচুপির’ নির্বাচনগুলোকে ভারত যেভাবে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়ে এসেছিল, এবারও তারা সেই একই ছক আঁকছে। নাহিদ ইসলামের মতে, বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করে দিয়ে একটি বিশেষ পক্ষকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতেই এই ‘ষড়যন্ত্রের জাল’ বোনা হচ্ছে।
জনগণের সার্বভৌমত্বের আহ্বান
নির্বাচনী প্রচারণায় নাহিদ ইসলাম ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা কোনো বাইরের শক্তির চাপের কাছে নতি স্বীকার না করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ চলবে জনগণের ইচ্ছায়, কোনো বিদেশের ইশারায় নয়। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে, সেখানে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির স্থান হবে না।”
উল্লেখ্য, ঢাকা-১১ আসনে (বাড্ডা, ভাটারা ও রামপুরা আংশিক) নাহিদ ইসলাম ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা ফুল’ প্রতীকে লড়ছেন। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির প্রভাবশালী প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। প্রচারণার সময় নাহিদ ইসলাম কেবল ভারতের ভূমিকার সমালোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের রোডম্যাপ এবং জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ ইসলামের এই মন্তব্য দেশের রাজনীতিতে ভারত-বিরোধিতার যে নতুন ঢেউ তৈরি হয়েছে, তাকে আরও চাঙ্গা করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে যারা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অনমনীয়, তাদের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যেই নাহিদ এই কৌশল নিয়েছেন। তবে কূটনৈতিক মহলে এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, তা এখন দেখার বিষয়।





