ঢাকায় ভোটকেন্দ্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নিরাপত্তা: ডিএমপি কমিশনারের কড়া নির্দেশ
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ মাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সোমবার দুপুরে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভায় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এই নির্দেশনা দেন।
এই সভা ঢাকার নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কমিশনার স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি না করে—এটাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ভোটকেন্দ্রগুলোকে এমনভাবে নিরাপদ করতে হবে যেন প্রত্যেক ভোটার নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। এর জন্য কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
ঢাকা মহানগরে ২০টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এখানে লাখ লাখ ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে গত এক বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনারের নির্দেশনায় জোর দেওয়া হয়েছে বহুস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর—যার মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, ভোটকেন্দ্রের চারপাশে পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা মনিটরিং এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিমের প্রস্তুতি।
সভায় অংশ নেওয়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, সংবেদনশীল জোন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কমিশনার সাজ্জাত আলী বলেন, “আমরা নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব। কোনো দল বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখানো হবে না। ভোটারদের নিরাপত্তাই আমাদের একমাত্র অগ্রাধিকার।”
এদিকে নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে ডিএমপি ইতোমধ্যে বিশেষ হটলাইন চালু করেছে। নম্বরগুলো হলো—০১৩২০-০৩৭৩৫৮, ০১৩২০-০৩৭৩৫৯ এবং ০১৩২০-০৩৭৩৬০। এসব নম্বরে যেকোনো নির্বাচনী অনিয়ম, হুমকি বা অভিযোগ জানানো যাবে। এছাড়া সাইবার মনিটরিং টিমও সক্রিয় রয়েছে যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।





