ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে মির্জা ফখরুলের কড়া অবস্থান
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চিলারং ইউনিয়নে নির্বাচনী গণসংযোগে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, ধর্মকে হাতিয়ার করে রাজনীতি করা দলগুলোকে এ দেশে কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে নেতাকর্মীদের স্লোগান ‘হিন্দু-মুসলিম বেঁধেছে জোট, ধানের শীষে দিবে ভোট’-কে তিনি অত্যন্ত প্রশংসা করে বলেন, এটি খুবই ভালো ও উপযুক্ত স্লোগান।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা যখন তুঙ্গে, তখন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক শক্তিশালী বার্তা হয়ে উঠেছে। চিলারং ইউনিয়নের দুপুরের পথসভায় তিনি বলেন, “আজ আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ যে, হিন্দু-মুসলিম সবাই একই চিন্তা করছি—যারা ধর্মকে ভিত্তি করে রাজনীতি করে, তাদের এখানে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। এটা খুব পরিষ্কার কথা।”
তিনি আরও যোগ করেন, এই স্লোগানটি তার খুব পছন্দ হয়েছে কারণ এতে সম্প্রীতির ছবি ফুটে উঠেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দেওয়া এই স্লোগান দ্রুত গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভোটারদের মধ্যে ঐক্যের অনুভূতি জাগিয়েছে। মির্জা ফখরুল হিন্দু সম্প্রদায়কে সরাসরি আশ্বস্ত করে বলেন, “ভয় পাবেন না। নির্ভয়ে ভোট দিতে যান, নির্ভয়ে ফিরে আসুন। প্রয়োজনে আমি প্রথম শহীদ হবো, আমার দলের লোকেরাও হবে।”
এই বক্তব্যের পটভূমিতে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছু অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি ছিল। অন্যদিকে, কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা দল ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে ভোট চাইছে, যেমন জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে ‘ভোট দিলে বেহেশতে যাবে’ এমন দাবি। মির্জা ফখরুল এসবের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের দাবির কোনো ইসলামী ভিত্তি নেই এবং এতে মুসলিম ভাইদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
তিনি একাধিক সভায় জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই মিলে একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চায় দলটি। এই নির্বাচনকে তিনি ‘আন্দোলনের অংশ’ হিসেবে দেখছেন, যেখানে ভোটাররা সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে দেশ এগিয়ে যাবে, ভুল হলে পিছিয়ে পড়বে।
স্থানীয়রা জানান, এই স্লোগান ও আশ্বাসে অনেক হিন্দু-মুসলিম পরিবার একসঙ্গে প্রচারে নেমেছে। একজন স্থানীয় বলেন, “এবার ধানের শীষ শুধু প্রতীক নয়, ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।”





