জাতীয় ফিচার

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র আহ্বান: দেশজুড়ে উপদেষ্টাদের প্রচারণা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশজুড়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠিত এই গণভোটে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাবগুলোর ওপর জনমত যাচাই হবে। উপদেষ্টারা বলছেন, এটি দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য পদক্ষেপ। (৪৮ শব্দ)

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এই প্রচারণা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র গতিতে চলছে। উপদেষ্টারা বিভিন্ন জেলায় সভা-সমাবেশ করে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব বোঝাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্প্রতি ঢাকায় এক সভায় বলেছেন, “এই সংস্কার ছাড়া দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে পরিবর্তন অসম্ভব।” অন্যদিকে, অন্যান্য উপদেষ্টারা রংপুর, খুলনা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছেন, যেখানে তারা স্থানীয় নেতা, নাগরিক সমাজ এবং যুবকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

এই প্রচারণার পেছনে রয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর সংস্কার প্রস্তাব। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনআন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ১৮ মাসে রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী গোষ্ঠী এবং তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে এই সনদ তৈরি করেছে। সনদে সংবিধান সংশোধন, নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং দুর্নীতি নির্মূলের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত। উপদেষ্টারা জোর দিয়ে বলছেন, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত না হলে অতীতের ভুল পুনরাবৃত্তি হবে, যা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।

তবে এই প্রচারণা নিয়ে বিতর্কও উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত নিরপেক্ষ থাকা, কারণ এটি একটি অস্থায়ী প্রশাসন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই অভিযোগের জবাবে বলেছে, “এই সরকারের মূল দায়িত্বই সংস্কার বাস্তবায়ন। নিরপেক্ষতা মানে নীরবতা নয়, বরং জনগণকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া।” তারা যুক্তি দেখিয়েছে যে, এই সমর্থন কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের জন্য নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের খাতিরে। আইনি দিক থেকেও কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছে সরকারের মুখপাত্র শফিকুল আলম।

প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে না শুধু উপদেষ্টারা, বরং ব্যাংক এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও। দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পোস্টার এবং প্রচারপত্র দেখা যাচ্ছে, যা সরকারের সঙ্গে সমন্বিত। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ যেমন #YesVote এবং #Referendum2026-এর মাধ্যমে যুবকরা এই আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি নতুন ধরনের রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করছে, যা অতীতে দেখা যায়নি। ১৯৯১ সালের পর এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় গণভোট, যা ৩৪ বছরের ব্যবধানে ঘটছে।

এই গণভোট যদি ‘হ্যাঁ’র পক্ষে যায়, তাহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ চিরতরে বদলে যাবে। সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে একটি আরও স্বচ্ছ, ন্যায়ভিত্তিক গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত হবে। তবে ‘না’ ভোটের ফলে অস্থিরতা বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত, এটি জনগণের হাতে—যারা দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে। এই প্রচারণা কেবল ভোটের জন্য নয়, বরং একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র