দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অভিন্ন নীতিমালা: শ্রুতি লেখকের সেবা সহজতর, ১৫ মিনিট অতিরিক্ত সময়
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় শ্রুতি লেখকের সেবা গ্রহণের জন্য একটি অভিন্ন ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে চলা শ্রুতি লেখক ব্যবস্থার জটিলতা দূর করতেই ‘পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় শ্রুতি লেখকের সেবা গ্রহণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চার মাস ধরে একাধিক অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬৫ জন। এর আগে শ্রুতি লেখক নিয়োগের কোনো অভিন্ন নীতিমালা না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। বিভিন্ন সময় খণ্ড খণ্ড প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে এই প্রক্রিয়া চলতো, যাতে শ্রুতি লেখকের যোগ্যতা, সম্মানী, আবেদন প্রক্রিয়া, অভিযোগ ও প্রতিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না।
নতুন নীতিমালায় এসব বিষয় সমন্বিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রতি এক ঘণ্টা পরীক্ষার বিপরীতে ১৫ মিনিট অতিরিক্ত সময়ের বিধান রাখা হয়েছে। নীতিমালাটি সকল সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। শ্রুতি লেখকের যোগ্যতা, আবেদন ফরমসহ বিস্তারিত তফসিলও নীতিমালায় সংযুক্ত রয়েছে।
প্রেস সচিব জানান, ইতোমধ্যে একাধিক সংগঠন ও সংস্থা এই নীতিমালাকে স্বাগত জানিয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বলেছেন, এই নীতিমালা শিক্ষায় সমতা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটাবে।
এই উদ্যোগকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নীতিমালাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।





