কর্নেল নাজমুল হুদা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত: জিয়াউর রহমানসহ অন্যদের অব্যাহতি
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা (বীর বিক্রম) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
দীর্ঘ ৪৭ বছর পর করা এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া গেলেও, এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ বা জোরালো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়নি সিআইডি।
সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন সেনাপ্রধান ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মেজর (অব.) মো. আবদুল জলিল এবং মেজর (অব.) আসাদ উজ্জামান-এর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা তাদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
এছাড়াও, তদন্তে উঠে এসেছে যে ওই হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু তাহেরের দায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, যেহেতু তিনি বর্তমানে মৃত, তাই তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগপত্র দাখিল করেননি।
সিআইডির ঢাকা মেট্রোর পরিদর্শক সিকদার মহিতুল আলম সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
ঘটনার সুদীর্ঘ ৪৭ বছর পর ২০২৩ সালের ১০ মে ঢাকা মহানগর পুলিশের শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদার মেয়ে ও সাবেক সংসদ সদস্য নাহিদ ইজাহার খান। হত্যাকাণ্ডের সময় তার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর।
মামলায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা এবং হত্যাকাণ্ডে সহায়তা ও প্ররোচনার অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। মামলাটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০২/১০৯/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছিল।





