শিক্ষকদের আন্দোলনের জেরে বাতিল শীতকালীন ছুটি
শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের কারণে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা (তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন) বিঘ্নিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে শীতকালীন ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। যে সব বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি, সেসব বিদ্যালয়ে ছুটি বাতিল করে পরীক্ষা গ্রহণের নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) উপসচিব রওশন আরা পলি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন বা বার্ষিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে যে সব বিদ্যালয়ে ১, ২, ৩, ৪ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি, সে সব বিদ্যালয়ের জন্য ১১ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত (শুক্র ও শনিবার ছাড়া তিন দিন) শীতকালীন ছুটি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে এ দিনগুলোতে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শীতকালীন ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষকদের পেশাগত দাবির আন্দোলনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় অধিদপ্তর এই জরুরি পদক্ষেপ নিল।
অতিরিক্ত তথ্যসূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মূলত বেতন বৈষম্য নিরসন এবং প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের একাদশ গ্রেডে বেতন নির্ধারণের দাবিতে সম্প্রতি লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। তাদের এই আকস্মিক কর্মবিরতির ফলে দেশের অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি, যার ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষের সমাপ্তি বিঘ্নিত হচ্ছিল।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এই নির্দেশনার ফলে এখন নির্ধারিত সময়ের আগে পরীক্ষা শেষ করে শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ নিশ্চিত করা যাবে।





