নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার অপেক্ষা: ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর পরিকল্পনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ক্ষণগণিক অপেক্ষা চলছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, আগামী ৭ ডিসেম্বর রোববার অনুষ্ঠিত কমিশন সভার পর ওই সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা করা হবে। এর আগে সভায় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই ও প্রত্যাহারের শেষ সময়সহ ভোটের দিন চূড়ান্ত করা হবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে, যাতে রমজানের আগে সম্পন্ন হয়। এসি সেক্রেটারিয়েটের সিনিয়র সেক্রেটারি আখতার আহমেদের জানানো মতে, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, পর্যবেক্ষকদের নীতিমালা—এসব প্রস্তুতি শেষের দিকে। গণভোটের সঙ্গে সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে হওয়ায় দুই ব্যালট পেপারে সময়ক্ষেপণ এড়াতে ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমানে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা ভোট হয়; এখন এটি সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ করার প্রস্তাব রয়েছে।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “মক ভোটিংয়ে দেখা গেছে, ভোটারদের লাইন লম্বা হয়ে যায়। তাই ভোটকক্ষে গোপনকক্ষ দ্বিগুণ করে দুটি করার ভাবনা করছি, যাতে মার্কিং-সিলিং ত্বরান্বিত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফেব্রুয়ারি মাসের পূর্বাভাস নিয়েও আলোচনা হবে।” গত ২৯ নভেম্বর শেরেবাংলা নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০০-এর বেশি ভোটার নিয়ে অনুষ্ঠিত মক ভোটিংয়ে এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে।
চীফ ইলেকশন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে ৭ ডিসেম্বরের সভায় এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বরে নির্বাচনী কোড অফ কন্ডাক্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন নিয়মাবলী অন্তর্ভুক্ত। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে তারা প্রতীকসহ ব্যালট পাবেন।
এছাড়া, ৩১ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত ১৮ বছর বয়স পূর্ণ যুবকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, নির্বাচনের ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে, যাতে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো তাদের তালিকা জমা দিতে পারে। এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হয়।





