আমনের বাম্পার ফলন, পেঁয়াজ ঘাটতি নেই: কৃষি উপদেষ্টা
কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী চলতি মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এবার আমনের চাষ ও ফলন ভালো হয়েছে, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। মার্কেটিং ইয়ার ২০২৫-২৬-এ আমনের ফলন ১৪.৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমএমটি) হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা গত বছরের ১৪ মিলিয়ন এমএমটির চেয়ে ৫% বেশি। এছাড়া সবজির উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য, যা বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন। বাজারে আমনের চাষ ভালো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা একটি দাম নির্ধারণ করে দিয়েছি। আমনের প্রতি কেজি চৌত্রিশ টাকা, আতপ চাল ঊনপঞ্চাশ টাকা ও সেদ্ধ চাল পঞ্চাশ টাকা কেজি। এই ন্যূনতম সমর্থন মূল্য (এমএসপি) কৃষকদের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যাতে তারা লাভবান হন।
উপদেষ্টা বলেন, এ মৌসুমে সবজির উৎপাদনও খুবই ভালো। বাজারে সবজির সরবরাহ ভালো, দামও সহনীয় পর্যায়ে আছে। তবে এবার আলু চাষিরা বড় ধরনের লোকসানে আছেন, তারা ভালো দাম পাননি। সে কারণে আলু চাষীদের প্রণোদনা দেওয়ার একটা ব্যবস্থা করা হবে। সরকার ২০২৫-এ আলু চাষীদের জন্য কেজি প্রতি ৯ টাকা ভর্তুকি (প্রায় ১০ কেজি পরিবারভিত্তিক) ঘোষণা করেছে, যা ৫৫ হাজার টন অতিরিক্ত উৎপাদন শোষণ করে দাম স্থিতিশীল রাখবে। এছাড়া, স্টার্চ উৎপাদনের জন্য কৃষকদের ঋণ ও প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা বাড়ানো হবে।
তবে আশার কথা পেয়াজ আমদানি করতে হয়নি, আমদানি করতেও হবে না। গ্রীষ্মকালীন মুড়িকাটা পেয়াজও কিছু দিনের মধ্যে বাজারে চলে আসবে। বাজারে পেয়াজের কোনো ঘাটতিও হবে না। কিছু কিছু অসাধু গোষ্ঠী এই পণ্যটির দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তারা সফল হবে না। নভেম্বরে ৭৫ হাজার টন স্থানীয় পেয়াজ বাজারে আসছে, যা দাম ১১০-১২০ টাকা থেকে ৫০ টাকার নিচে নামিয়ে আনবে। সরকার বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে এবং সিন্ডিকেট দমনের জন্য ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) স্টক মার্কেটে মুড়িকাটা পেয়াজ ছাড়বে।
উপদেষ্টা বলেন, এই ফলন দেশের খাদ্যনিরাপত্তা শক্তিশালী করবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাবে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে বীজ-সারের সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে এবং জলবায়ু-সহনশীল ফসলের গবেষণা জোরদার করা হয়েছে।





